ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সংবাদ কভার করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে মারাত্মক হেনেস্তা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন তিন নারী সাংবাদিক! প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত নারী সাংবাদিকদের মধ্যে একজন অভিযোগ করেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশি অ্যাকশনের ভিডিও ধারণ করার সময় এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) তাঁকে মানহানিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং শারীরিকভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরবর্তীতে মামলা করতে থানায় গেলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এফআইআর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুরো ভারত জুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
এই ঘটনায় কেন্দ্র সরকারকে আড়ে-বহাল নিশানা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি জবাবদিহি দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, দিল্লি পুলিশ সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়, তাই অমিত শাহজিকে এর উত্তর দিতেই হবে! তিনি অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী নারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ, সাংবাদিকদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন নারী সাংবাদিকের অভিযোগ নিতেও যে সরকার ভয় পায়, তারা আসলে কাকে রক্ষা করছে, এমন কড়া প্রশ্ন তুলে পুলিশ বাহিনীর এই আচরণকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য চরম হুমকি বলে আখ্যা দেন রাহুল।
রাজধানীর বুকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন আগ্রাসী আচরণের ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভয়ভীতিহীনভাবে কাজের পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। দেশের রাজধানীর বুকেই যদি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়, তবে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত অশুভ লক্ষণ। পরিস্থিতির চাপে পড়ে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগ তিনটি গ্রহণ করেছে এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলাটি সরাসরি ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দিল্লির রাজপথে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এমন আঘাত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
