বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানেই আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানে আছে। এ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা খুশি না। কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে আমেরিকা বর্তমানে এদেশে তাদের কাজ অব্যাহত রাখছে। তারা তাদের দেশের স্বার্থে কাজ করছে, তবে এদেশের জনগণের বিপক্ষে নয়। পশ্চিমারা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষেই আছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জোট সঙ্গীদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বর্তমানে বাংলাদেশ সফররত।
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে সামনে তাকাতে চায় পেছনে নয়।
লিখিত বক্তব্যে ডোনাল্ড লু জানান, সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকতে পারে। তবে তা আর সামনে আনতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।
জো বাইডেনের হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আসার পর থেকেই বাংলাদেশে আলোচিত ডোনাল্ড লু। ভিসা নীতি, মানবাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে এর আগে সরব দেখা গেছে তাকে।
নির্বাচনের আগে যখন একাধিকবার ঢাকা সফর করেছিলেন, তখন অবশ্য এমনটি দেখা যায়নি। তাকে নিয়ে তখন সরকারবিরোধীরাই বেশি মাতামাতি করেছিলো।
এবার অবশ্য ভিন্ন চিত্র। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে যে, ডোনাল্ড লুর সফর নিয়ে তারা উৎসাহী নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ডোলান্ড লু নিজেও আগের সেই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, আমরা সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চেয়েছিলাম। তাই অস্বস্তি ছিলো, যা হতেই পারে।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর আমাদের মধ্যে অনেক টেনশন ছিলো। আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি; একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য, যেন কোনো সহিংসতা না হয়।
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে জোটের শরিকদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি। বুধবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে প্রথম দফায় গণফোরামের একাংশ ও পিপলস্ পার্টির সাথে বৈঠক করে বিএনপি লিঁয়াজো কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হয় গণতন্ত্র মঞ্চে থাকা আরও ছয়টি দলের নেতাদের সাথে।
সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে না। দেশের মানুষ চায় অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেজন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এ থেকে বিএনপি ভবিষ্যৎ আন্দোলন কর্মকৌশল চূড়ান্তের আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সরকার একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সেজন্য রাষ্ট্রদূত, সরকারি কর্মকর্তারা সরকারের হয়ে কাজ করছে। দেশের বাইরে রাষ্ট্রদূতরা দেশের জন্য নয়, আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। সরকার মিথ্যার ওপর টিকে আছে, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। মিথ্যার ওপর সাময়িক সময়ের জন্য টিকে থাকা যায়, বেশিদিন না।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা আবার নতুন উদ্যোমে আনন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছি। সরকারের কোথাও জবাবদিহিতা নেই, আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই। স্বাধীনতার স্বপ্ন ধুলিসাৎ করেছে। জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতেই লু’র সফর: হাছান মাহমুদ