অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবি এবং দলের ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ওপরই আস্থা বজায় রাখল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সোমবার ইসিবি নিশ্চিত করেছে যে, ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে থাকছেন ম্যাককালাম। এর পাশাপাশি বেন স্টোকস টেস্ট অধিনায়ক এবং হ্যারি ব্রুক সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে বহাল থাকছেন।
দলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবার্ট কি’র পদেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। মূলত চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হার এবং সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর দলের নেতৃত্ব নিয়ে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, এই ঘোষণার মাধ্যমে আপাতত তার অবসান ঘটল।
অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের নিউজিল্যান্ডে একটি নাইটক্লাব বাউন্সারের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়া এবং অলরাউন্ডার লিয়াম লিভিংস্টোনের দলীয় সংস্কৃতি নিয়ে করা মন্তব্য অস্বস্তি বাড়িয়েছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছিল, অধিনায়ক স্টোকস ও কোচ ম্যাককালামের মধ্যো সুসম্পর্কও কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। তবে ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবার্ট কি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ম্যাককালামই সেরা ব্যক্তি। রবার্ট কি’র মতে, হারের মানেই এই নয় যে তারা খারাপ নেতা, বরং দলের প্রয়োজনে 'বাজবল' কৌশলের বিবর্তন ঘটানোই এখন মূল লক্ষ্য।
অধিনায়ক বেন স্টোকস গত তিন মাসকে তার নেতৃত্বের সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কুঁচকির চোটের কারণে জানুয়ারির পর থেকে মাঠের বাইরে থাকা স্টোকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ব্যর্থতা থেকেই তারা সবচেয়ে বড় শিক্ষা নিয়েছেন এবং ঘুরে দাঁড়াতে তারা বদ্ধপরিকর।
আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ম্যাককালামের চুক্তি রয়েছে। জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বর্তমান নেতৃত্বকে পুনরায় নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। ইসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ম্যাককালামের নিজস্ব আক্রমণাত্মক ধরনেই আস্থা রাখছে এবং কোনো অবস্থাতেই নেতৃত্বের ধরনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায় না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
অবশেষে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন জিদান