ইউক্রেনের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়ার
সেনাবাহিনী। কৃষ্ণ সাগরে মোতায়েন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক রণতরী মাকারোভ। এরইমধ্যে, আবারো
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন।
এদিকে, যুদ্ধের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাপান সফরের বিরোধিতায় টোকিওতে বিক্ষোভ হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। বিমান-আর্টিলারির হামলায় নতুন করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে অঞ্চল দুটি।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, কৃষ্ণসাগরেও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া। ক্রিমিয়ার সেবাস্তোপল বন্দর থেকে ওডিসার দিকে রুশ রণতরী ফ্রিগেট মাকারোভ রওনা দিয়েছে।
ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় ডুবে যাওয়া রণতরী মস্কভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে এটি। মাকারোভের সংযোজনে কৃষ্ণসাগর থেকে ইউক্রেনে মিসাইল হামলা আরো বাড়বে বলে শঙ্কা কিয়েভের।
অব্যাহত যুদ্ধের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান সামরিক কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেন, যুদ্ধের অবশ্যই সমাপ্তি ঘটবে, ইউক্রেনের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধারের
রুশ ইউক্রেন-যুদ্ধের মধ্যেই পূর্ব এশিয়া সফর করেছন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনদিনের সফরে জাপানে অবস্থান করছেন তিনি।
রোববার তার এ সফরের বিরোধিতা করে রাজধানী টোকিওতে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ জাপানি। মার্কিন নেতৃত্বে ন্যাটোর সদস্যরা রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে তীব্র করেছে বলে অভিযোগ তাদের।
যদিও, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কুশিদার সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিশ্চিত করেছেন বন্ধু রাষ্ট্র জাপানের প্রতিরক্ষা ইস্যুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ইউক্রেনে জারি করা সামরিক আইনের মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সামরিক আইন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর হাতে অধিকতর ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর আওতায় নাগরিকদের স্বাধীনতা কিছুটা সীমিত করা হয়।
এছাড়া ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম পুরুষদের ইউক্রেন ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নাগরিকদের রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের ২২ মিলিয়ন টন খাবার রপ্তানি আটকে দিয়েছে রাশিয়া। এ অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
পর্তুগীজ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদেরকে জেলেনস্কি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইউক্রেনকে তার বন্দরগুলোকে অবরোধমুক্ত করতে সহায়তা না করলে জ্বালানি সংকটের পর খাদ্য সংকট দেখা দেবে। চলমান সংকট নিরসনে সামরিক সমাধান একটি উপায় হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।
তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সেনাদের বিনিময়ে রুশ সেনাদের মুক্তি দিতে সম্মত তারা। এদিকে, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডুডা ইউক্রেনের পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, ইউক্রেনকেই তার ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে হবে।
একাত্তর/এসএ
