রাজধানীর পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এক সাথেই চলছে কারখানা এবং মানুষের বসবাস। একই এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দিন কাটে শত শত শিক্ষার্থীর।
কর্মব্যস্ত মতিঝিলের বাণিজ্যিক এলাকাতেও মৃত্যুদূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। কিন্তু এসব নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
রাজধানীতে যেভাবে অপরিকল্পিত ভবন গড়ে উঠেছে, তাতে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে কি হবে পরিস্থিতি, কতোটা ভয়ংকর হবে এমন সব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারও।
রাজধানী পুরনো ঢাকার একটি ভবনের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এই প্রতিবেদন দেখতে পায় যে, ভবনটির বীমে পচন ধরেছে। এতেটাই খারাপ অবস্থা যে, যে কোন সময় ধসে যাবে।
বলা হচ্ছিলো পুরনো ঢাকার পুরান ঢাকার আনন্দ বসাক লেনের একটি বাড়ির কথা। বীমে পচন এতোটা খাপার বাইরে থেকে লাঠি অনায়াসে প্রবেশ করানো যাচ্ছে।
পুরনো এই ভবনের নীচের বীমেও ক্ষয় ধরেছে। হাত দিয়েই সরানো যাচ্ছে বীমের ইট। কারখানা হিসেবে ব্যবসহৃত এই ভবনে সারাক্ষনই কাজ করছেন শ্রমিকরা।
লক্ষীবাজার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। ৭৩ বছর আগের এই ভবনটির অবস্থা আরও করুন। ছাদের পলেস্তার খসে পড়ছে। কঙ্কালের মতো বেরিয়ে আসছে রড।
জানালার দেয়ালেও ভাঙ্গন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায়ই তাদের ওপর খসে পড়ে পলেস্তরা। বাধ্য হয়েই ঝুকিপূর্ন এই ভবনে ক্লাশ চালিয়ে নিতে হচ্ছে বলে জানালেন কলেজটির অধ্যক্ষ।
কর্মব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল। সেখানের একটি ভবনে এক বছর আগেই পিলারে ফাটল ধরে। ঝুকিঁপূর্ণ ঘোষণা করে এটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়।
খালি ভবনটিতে কেউ থাকে না। তবে, আশপাশের ভবন আর পথ চলতি হাজারো মানুষের জন্য এটি যেনো মৃত্যুদূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রাজধানীতে অতিঝুকিপূর্ণ বা ঝুকিপূর্ণ এমন ভবনের সংখ্যাটা আসলে কতো ? উত্তরটা কারও কাছে নেই। জানে না রাজউকও। কিন্তু কেন?
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান মিঞা জানান, গোটা রাজধানীতের কতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আসে সেটা সমীক্ষা চালানোর মতো লোকবল তাদের নেই।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকায় তুরস্কের মতো ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। ক্ষতির পরিমাণ তুরস্কের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
একাত্তর/এআর
