বৃহস্পতিবারও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। নতুন মজুরি নীতি প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে নামেন পোশাক শ্রমিকরা।
দুপুরে কোনাবাড়ি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা তাণ্ডব শুরু করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে পুলিশ।
অন্যদিকে বাসন এলাকায় সড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের সময় অন্তত ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এ এলাকায়ও টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে।
সকালে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা, রওশন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটপাটকেল ছোঁড়ার পাশাপাশি সড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাবের একাধিক টহল টিম কাজ করে।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বলছে, দুষ্কৃতিকারীরা যেন পরিবেশ অশান্ত করতে না পারে সেদিকে সজাগ রয়েছেন তারা।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের বেতন ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তারপরেও একটি মহল শ্রমিকদের সাথে মিলে পরিবেশকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, জানমাল রক্ষার্থে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সড়কে র্যাব-পুলিশ-বিজিবি কাজ করছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের (শ্রমিকদের) সড়ক থেকে সরে যেতে বলেছি। যারা বিশৃঙ্খলা করতে চাচ্ছে- তাদের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ এবং বুধবার এক নারী শ্রমিক নিহত হওয়ায় কোনাবাড়ি, জরুন ও কাশিমপুর এলাকার অনেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পোশাক কারখানা শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের কারখানায় আন্দোলন চলছে।

এরইমধ্যে মূল মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করেছে সরকার, যা পহেলা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

সবশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বছরের জন্য পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করার দাবি ছিলো শ্রমিকদের।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে গত এপ্রিলে নিম্নতম মজুর বোর্ড গঠন করে সরকার। গত ২২ অক্টোবর এই বোর্ডের চতুর্থ সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করেন। আর মালিকপক্ষ ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়।

ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে- এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরে আন্দোলন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে তা আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
গাজীপুরের শ্রমিক বিক্ষোভ, দুই বাসে আগুন