ভারতের লোকসভা ভোটের ফল আসতে শুরু করার পরই রাজনীতির ময়দানে নতুন হিসাব শুরু হয়ে গেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলা বিজেপির একার পক্ষে সরকার গঠন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। আর এ সুযোগই এখন নিতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইন্ডিয়া।
ইন্ডিয়া জোটের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে অস্বীকার না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়গে বলেছেন, তারা জোটের বৈঠকে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
কংগ্রেসের একসময়ের মিত্র নাইডু ও নীতীশের দল এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট থেকে লড়ছে। তবে তাদের দুইজনের দল এমন পরিমাণ আসন পেতে পেয়েছেন যে, যারাই সরকার গঠন করতে চাইবেন তাদেরকেই প্রয়োজন হবে নাইডু আর নীতীশের।
ভোটের ফল অনুযায়ী, ৫৪৩টি আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯২ আসনে, আর ইন্ডিয়া ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন। বিজেপি পেয়েছে ২৪০ আসনে। নাইডুর টিডিপি ১৬ এবং নীতীশের জেডিইউ ১২ আসন।

কোনো কারণে নাইডু ও নীতিশের দলের ২৮ আসনে সমর্থন না পেলে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারবে না। আবার তারা ইন্ডিয়া জোটকে সমর্থন দিলে এবং কংগ্রেস আরও কয়েকজনকে ভেড়াতে পারলে তারা সরকার গঠন করতে পারবে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে নাইডু ও নীতীশ। আর এনডিএর কাছ থেকে এই দুই নেতা ছাড়াও বড় দুই জোটের বাইরে যে ১৭ জন আসন পেয়েছেন, তাদেরকেও আনার জন্য পোড় খাওয়া কয়েকজন রাজনীতিবিদ মাঠে নেমে পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।
কংগ্রেসের পুরোনো বন্ধু চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি এবং নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ কী করবে, তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এদিনের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় রাহুলকে। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী কাল আমরা বৈঠকে বসছি।
চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমার দুইজনই ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বিজেপির ও কংগ্রেসের সঙ্গে বহুবার তারা জোট বেঁধেছেন ও ছেড়েছেন। এবার তারা বিজেপির সঙ্গে জোট করলেও আগে থেকেই ভিন্ন হিসাব মাথায় রেখেছিলেন। বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি ও জেডিইউ আসন সমঝোতা করে ভোট করেছেন। পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি তারা।

ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া থাকলেও ফল ঘোষণার পর সুবিধামতো যে কোনো সময় এই দুই নেতা অবস্থান পাল্টে ফেলতে পারেন বলে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। আর ভারতের আইনে ভোটের আগে জোট হলে, ভোটের পরেও একসঙ্গেই থাকতে হবে-এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতি হিন্দুত্বে গাজন নষ্ট করে ফেলেছে মোদির বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন বিভিন্ন ঘাঁটি হারিয়েছে বিজেপি। মাত্র ১১ মাস আগে গড়া ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে লড়তে ঘাম ছুটে গেছে এনডিএর। আর এই সুযোগে তীব্র হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা প্রবীণরা মাঠে নেমেছেন বিজেপিকে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন ঠেকাতে।
ইন্ডিয়া জোট গড়ার অন্যতম একজন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার গঠনের আগেই জোট সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এদিন বিকেলেই সাংবাদিকদের মমতা বলেন, আমি আমার সমস্ত ‘ইন্ডিয়া’র সঙ্গীদের সমর্থন জানাচ্ছি। যারা আছেন। যারা আমাদের সঙ্গে জুড়তে চান। তাঁদের প্রত্যেককে আমার শুভেচ্ছা।

যেহেতু সরকার গঠনের জন্য এনডিএ-র দুই শরিক টিডিপি ও জেডিইউবে বিজেপির লাগবেই, তাই তাদের ভাগাতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। আর এ কাজে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে পড়েছেন মহারাষ্ট্রের চারবারের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি (এস) প্রধান শরদ পাওয়ার।
এনডিএর জোটে বিজেপি এবং নাইডু ও নীতিশের দল ছাড়াও আসন পেতে যাচ্ছে আরো পাঁচটি দল। টিডিপি ও জেডিইউসহ বাকিদেরও ভেড়াতে বেশ কয়েকজন শরিক নেতার যোগাযোগ শুরু করেছেন প্রবীণ শরদ পাওয়ার।
নাইডু ও নীতীশ কয়েকদফার মুখ্যমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় একই জোটভুক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠে লড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে শরদ পাওয়ারের। আর সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চাচ্ছে ইন্ডিয়া জোট।
নাইডু-নীতীশকে নিয়ে যেখানে ভয় বিজেপির
আবারও পূণর্জন্মের গল্প লিখলো কংগ্রেস!