মাঙ্কিপক্স বা এমপক্সের টিকার প্রথম চালান পেয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি)। এর ফলে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে দেশটির স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।
এমপক্সকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে গেলো মাসে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরইমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, পাকিস্তানসহ আফ্রিকার দেশগুলো এ ভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডিআরসি'র রাজধানী কিনশাসায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এমপক্সের টিকার প্রথম চালান নিয়ে একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করে। দেশটিকে অনুদান হিসেবে এসব টিকা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য বর্তমান ট্রায়ালটি পরিচালিত হচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা মুলাম্বা বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত এ টিকা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি কঙ্গোর কোন প্রদেশগুলোতে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যেসব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে, সবার আগে সেখানে টিকা দেওয়া হবে।
প্রাথমিক অবস্থায় আফ্রিকার কিছু দেশে এমপক্স বা মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বিশ্বব্যাপী তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে ইউরোপ ও এশিয়ায় শনাক্ত হয়েছে অতি সংক্রামক এ রোগ।
১৯৭০ সালে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে মানবদেহে প্রথম এমপক্সের সংক্রমণ হয়েছিলো। পরে সেটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে, এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাস থেকেও অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে। এমপক্সের উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতোই। এটি ত্বকের ক্ষত সৃষ্টি করে, যা মারাত্মক প্রাণঘাতী হতে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৪ শতাংশ।
আফ্রিকায় এমপক্স ভাইরাসের দুইটি প্রধান ঢেউ সঞ্চালিত হয়েছে। একটি ধরণ হলো ‘ক্লেড আই’, এটি মধ্য আফ্রিকার স্থানীয়দের শরীরে বেশি সংক্রমিত হতে দেখা যায়। আরেকটি ধরন হলো ‘ক্লেড আইবি’। এটি এমপক্সের নতুন এবং আরও মারাত্মক ধরণ, যেটিকে একজন বিজ্ঞানী ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এ নতুন ধরণটির কারণেই বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও।
এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে এমপক্সের একটি ধরন ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু অংশসহ প্রায় ১০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। ডব্লিউএইচওর একটি গণনা অনুসারে, সেই প্রাদুর্ভাবের সময় ৮৭ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোতে প্রায় ২৭ হাজার মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১,১০০’র বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
