আশির দশকের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক জলসীমায় আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে ডামি বিস্ফোরকসহ প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
এটি কোনও দেশ বা লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি চালানো হয়নি বরং, এটি চীনের বাৎসরিক মহড়ার অংশ ছিল বলে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। খবর বিবিসি’র।
প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘বাৎসরিক মহড়ার অংশ’ দাবি করাটা বিস্ময়কর। কারণ তারা সর্বশেষ এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়েছিল ১৯৮০ সালে।
চীনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা সাধারণত দেশের ভেতরেই হয়ে থাকে। শেষবার তারা পরীক্ষামূলকভাবে আইসিবিএম উৎক্ষেপণ করেছিল জিনজিয়াং অঞ্চলের তাকলামাকান মরুভূমিতে।
সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অব পাবলিক পলিসির ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ড্রিউ থম্পসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘চীনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনও দেশকে লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়নি। কিন্তু চীনের সঙ্গে জাপান ও ফিলিপাইনের ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাইওয়ানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা তো আছেই।’ এদের সবাইকে ভয় দেখানোর জন্য চীন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জন রিজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দিয়েও এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে চীন।’ গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন দাবি করে, চীনের অস্ত্রাগারে ৫০০টিরও বেশি সক্রিয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০টিই আইসিবিএম।
এদিকে, চীন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও অন্যান্য সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা তাইওয়ানের চারপাশে মিশনে থাকা ২৩টি চীনা সামরিক বিমান শনাক্ত করেছে বলে বুধবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়া হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা স্থগিত করে চীন।
ইরানে রেভ্যুলুশনারি গার্ডসে যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা