গাজায় অনাহারে ৩৫ দিনের এক শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলি অবরোধে উপত্যকাটির মানবিক সংকট তীব্র হতে থাকলেও থামছে না ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের হামলা। রাফার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে শনিবার ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ৩৮ জন।
এ নিয়ে গাজাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নেতানিয়াহুর বাহিনীর চালানো তাণ্ডবে প্রাণ হারান ১১৬ ফিলিস্তিনি। এদিকে অব্যাহত হামলার মধ্যেই গাজায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় বসেছে শিক্ষার্থীরা।
গাজায় আবারো একদিনে হামলা চালিয়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। আর এমন ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থায়ও এবার থেমে থাকেনি মাধ্যমিক সমাপনী পরীক্ষা। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন দেড় হাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরুর পর প্রথমবার কোনো সরকারি পরীক্ষার আয়োজন হচ্ছে উপত্যকাটিতে। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখছে গাজার শিক্ষার্থীরা।
এদিন, তীব্র অনাহারে গাজায় মৃত্যু হয়েছে দুই ফিলিস্তিনির। যার মধ্যে রয়েছে মাত্র ৩৫ দিন বয়সী এক শিশুও। এছাড়া, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির ১৭ গাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এতে সেখানকার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।তিল ধারণ ক্ষমতা নেই কোথাও। গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে আবারো সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
এমন মানবেতর পরিস্থিতিতেও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলি সেনাদের বর্বর হামলা থেমে নেই। শনিবারও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় ত্রাণ নিতে যাওয়া বহু ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে তারা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এরই মধ্যে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলার তীব্র সমালোচনা করে এসব ঘটনা ‘আর গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মের্জ।

তিনি বলেছেন, বার্লিন তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় ‘আত্মরক্ষার’ পদক্ষেপ হিসেবে গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করে আসছে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানি। এবারই প্রথম তাদেরকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে দেখা গেল।
একই দিন গাজায় হামলা বন্ধ করে হামাসের কাছে থাকা সব জিম্মিকে ইসরাইলে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শনিবার তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন জিম্মিদের স্বজনরা।
এদিন, তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাসের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতানিয়াহুকে দ্রুত একটি চুক্তি করার দাবি তোলেন তারা। এর আগে, হামাস জানায়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের সবশেষ চুক্তিটিও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল।
থামছেই না দ্রুজ-বেদুইনের রক্তাক্ত সংঘর্ষ, বাড়ছে প্রাণহানি