সার্বিয়ায় টানা কয়েকদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র ও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবারও দেশজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। সার্বিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশটির উত্তরের শহর নোভি সাদে শাসক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন তারা। এই শহরেই ৯ মাস আগে শুরু হয়েছিল সরকারবিরোধী আন্দোলন। বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচের কাছে আগাম নির্বাচনের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড এবং অন্যান্য শহরে শনিবার গভীর রাতে বিক্ষোভকারী এবং দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে দাঙ্গা পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাত বোমা এবং পাথর নিক্ষেপ করে এবং পুলিশ অফিসাররা স্টান গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে জবাব দেয়।
নোভি সাদে শহরে বিক্ষোভকারীরা শাসকদল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি এসএনএস-এর কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা সেখানকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নথি নিয়ে যাবার সময় প্রবেশপথে রঙ ছিটিয়ে দেয়। এ ছাড়াও সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে শত শত বিক্ষোভকারী এবং এসএনএস সমর্থক শহরের একটি প্রধান বুলেভার্ডে একে অপরের দিকে আগুন এবং আতশবাজি ছুঁড়ে মারে।

কেন্দ্রীয় শহর ভালজেভোতে হাজার হাজার মানুষ ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিকের দলের বিরুদ্ধে তাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করতে জড়ো হয়েছিল, সেখানে মুখোশধারী যুবকদের একটি ছোট দল ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ফাঁকা কার্যালয়গুলোতে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

গত নভেম্বরে নোভি সাদ শহরে একটি ট্রেন স্টেশনের ছাউনি ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এতে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। বলকান দেশটিতে এই দুর্ঘটনাটি গভীর দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্বচ্ছ তদন্ত এবং আগাম নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
কিন্তু এই সপ্তাহের শুরুতে বেশিরভাগ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অবনতি ঘটে। কারণ, সরকার সমর্থকদের একটি বিশাল দল তাদের অনেকেই মুখোশধারী এবং কেউ কেউ লাঠি ও হাতবোমা নিয়ে সজ্জিত বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করে। এর ফলে বেশ কয়েক রাত ধরে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যেসব শর্তে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাজি পুতিন