দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে সবসময়ই চিহ্নিত হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কেন এত ভূমিকম্পপ্রবণ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো বহু টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই প্লেটগুলো ক্রমাগত সরতে থাকায় বারবার ভূমিকম্প হয়।
বিশ্বের যে কয়টি দেশ সবচেয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে বেশি রয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। এরমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সংখ্যা কম নয়। গেলো নভেম্বরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা। এরপরের ৩১ ঘণ্টায় ঢাকায় আরও চারবার কম্পন অনুভূত হয়।
এ বছরই মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। অক্টোবরের শুরুতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে ফিলিপাইনে।
এছাড়া ২০১৫ সালের নেপালে ভূমিকম্পের ভয়াবহতার কথা মনে করে এখনও আঁতকে ওঠে মানুষ। এই দুর্যোগগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করছে যে, এই অঞ্চল ভূমিকম্পের প্রতি কতটা সংবেদনশীল।
কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এত ভূমিকম্পপ্রবণ কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠের অনেক অনেক গভীরে; যেখানে রয়েছে জটিল টেকটোনিক প্লেটের বিন্যাস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ভারতীয়, ইউরেশিয়ান, বার্মিজ প্লেট এবং প্যাসিফিক প্লেটের মত বহু টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যে প্লেটগুলো ক্রমাগত সরতে থাকায় বারবার ভূমিকম্প হয়।
এ ছাড়া ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার করে উত্তর দিকে সরছে এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এতে প্রচণ্ড ভূ-ভৌগোলিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রাচীন ফল্ট লাইনগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করে তুলছে। এখানে ভূমিকম্প এত বিধ্বংসী হওয়ার আরেকটি কারণ—অগভীর কম্পন ও ঘনবসতি। ঢাকা, কাবুল, দিল্লি, কাঠমান্ডুর মতো শহরগুলো সরাসরি ফল্ট লাইনের কাছে। দ্রুত নগরায়ণ ও দুর্বল নির্মাণ ব্যবস্থা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা টেকটোনিক চাপ যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে। ৮ বা তারও বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কম্পনগুলোতে বড় ক্ষতি না হলেও—বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো আসন্ন বড় ভূমিকম্পের সতর্ক সংকেতও হতে পারে। এজন্য ঝুঁকি কমাতে ভবন নির্মাণে কঠোর মানদণ্ড ও প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকরা।
জাপানে ৭.৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, ২২২ মৃত্যু, সুনামি সতর্কতা জারি
জাপানে বারবার ভূমিকম্পের পেছনে ‘রিং অব ফায়ার’