ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর ইরান প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্বের প্রতি কেমন আচরণ করবে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের পাশাপাশি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে ইরান। পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেছেন।
রেজা পাহলভি তার বার্তায় বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট ইরান আপনাদের মনে আজ সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও দারিদ্র্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ইরান সম্পূর্ণ আলাদা। সেই ইরান সুন্দর, শান্তিকামী এবং সমৃদ্ধশালী।

তিনি আরও যোগ করেন, এটি সেই ইরান যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আগে বিদ্যমান ছিল এবং এটিই সেই ইরান যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের দিন তার ধ্বংসাবশেষ থেকে আবার জেগে উঠবে। তাই এই শাসনব্যবস্থার পতনের পর একটি মুক্ত ইরান তার প্রতিবেশী এবং বিশ্বের সাথে কেমন আচরণ করবে, সে বিষয়ে আমাকে স্পষ্ট করতে দিন।
পাহলভি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন অবিলম্বে শেষ হবে। একটি মুক্ত ইরান সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং চরমপন্থী ইসলামবাদের মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে কাজ করবে। ইরান এই অঞ্চলে একটি বন্ধু এবং স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় একজন দায়িত্বশীল অংশীদার হবে।

কূটনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে এবং আমেরিকার জনগণ ও দেশটির সাথে আমাদের বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে। ইসরাইল রাষ্ট্রকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেয়া হবে। আমরা 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-কে 'সাইরাস অ্যাকর্ডস'-এ রূপান্তরের চেষ্টা করব, যা একটি মুক্ত ইরান, ইসরাইল এবং আরব বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
জ্বালানি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে। একটি মুক্ত ইরান মুক্ত বিশ্বের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত হবে। আমাদের নীতি নির্ধারণ হবে স্বচ্ছ এবং ইরানের কার্যক্রম হবে দায়িত্বশীল। জ্বালানির দাম হবে অনুমানযোগ্য।
পাহলভি জোর দিয়ে বলেন যে, এখন বিচ্ছিন্নতার বদলে সুযোগের সৃষ্টি হবে। বার্তার শেষে তিনি বলেন, এটি কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত রূপকল্প। যা জাতীয় স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি অর্জনের জন্য এখন ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সময়। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন এবং ইরানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা কেবল আমার দেশের মানুষের মর্যাদাই পুনরুদ্ধার করবে না, বরং এটি এই অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
ইরানে মার্কিন হামলা রুখতে সৌদি আরবের দৌড়ঝাঁপ
সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ইসরাইল