পারস্য উপসাগরীয় তিন মিত্র দেশ সৌদি, ওমান ও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান।
তিনি বলেন, এর ফলেই শেষ পর্যন্ত তেহরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এখনও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
তবে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এলেও, হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের জন্য সমস্ত বিকল্প খোলা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট আজ জানতে পেরেছেন, ইরানে যে ৮০০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলে ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না। একই সময়ে পারস্য উপসাগরীয় মিত্ররা তাকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে তৎপর হয়।
সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্ক ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আজ বা আগামীকাল কোনো ফাঁসি হবে না।’
এ বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ভালো খবর। আশা করি, এটি অব্যাহত থাকবে!’
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।
বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো কুয়েত
৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান: হোয়াইট হাউস