চতুর্থ দিনেও হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা ঘিরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চতুর্থ দিনে গড়ালেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মঙ্গলবার নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। এগুলোর লক্ষ্য ছিল জেরুজালেমসহ একাধিক স্থান।

দখলদার বাহিনী আরও জানায়, আইডিএফ ইসরাইল রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। 

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ওই এলাকায় বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের বাসভবন রয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, রিয়াদে দুইটি ড্রোন হামলায় মার্কিন দূতাবাসে ‘সামান্য অগ্নিকাণ্ড ও সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

কাতারে মঙ্গলবার ভোরে দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এর আগে দোহাজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন এএফপি সাংবাদিকরা।

সোমবার কাতার দুইটি ইরানি বোমারু বিমান ভূপাতিত করে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সংকট আরও তীব্র করে তোলে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ‘কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্র গুদাম’ রয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ইসরাইল।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি মধ্যরাতের কিছু পর জানায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একে তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের ‘এখনই চলে যাওয়ার’ আহ্বান 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে মিসর ও উপসাগরীয় দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মার্কিন নাগরিকদের চলে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।

কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিচে উল্লেখিত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এখনই বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবহার করে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত ১৪টি দেশ হলো—বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-এর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে সেটিকে আঘাত করে ও গুড়িয়ে দেয়।  

আইআরআইবি টেলিগ্রামে লিখেছে, তেহরানে তাদের সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন জেনারেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

গার্ড বাহিনীর টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সারদার জাব্বারি বলেন, আমরা তেল পাইপলাইনেও হামলা চালাব এবং অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেব না। আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় তারা ১ হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রকাশিত এক তথ্যানুসারে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা।

যুদ্ধের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে মার্কিন হামলা প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তার সমালোচনার জবাব দিতেই তার প্রশাসন এ অবস্থান নেয়।

সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানে হামলার চারটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমত, আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করছি। দ্বিতীয়ত, তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করছি। তৃতীয়ত, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক দেশ যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করছি।

সবশেষে, আমরা নিশ্চিত করছি যে ইরানি শাসনব্যবস্থা তাদের সীমান্তের বাইরে সন্ত্রাসী বাহিনীকে অস্ত্র, অর্থ ও নির্দেশনা দিতে না পারে, যোগ করেন তিনি। 

আরবিএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে সচারচরের একটি কর্মব্যস্ত দিন মুহূর্তেই যেন রূপ নিল এক বিভীষিকাময় রক্তাক্ত অধ্যায়ে। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে উগ্র বর্ণবাদী ও চরমপন্থী এক শ্বেতাঙ্গ...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই স্নায়ুক্ষয়ী মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাতে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মুকুট মাথায় তুললেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দি করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের মুকুট মাথায় তুলেছেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে স্পেনের ট্রফি উদযাপনের রাতেই বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো আরও এক সোনালী ইতিহাস। রোববারের সেই রক্তক্ষয়ী ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে...
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম মহাযজ্ঞের অবসান ঘটল এক চরম নাট্যমঞ্চের মধ্য দিয়ে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর