আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি এখন এক অত্যন্ত নাজুক এবং সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। একদিকে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারেরা লেবাননে ইসরাইলি হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য ক্রমশ চাপ সৃষ্টি করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের আলোচকরা বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো, যে কোনো চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে লেবাননকে রক্ষা করতে হবে।
ইরানের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি হলো, যদি যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়েও লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পর তারা যে ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলা থেকে বিরত রাখবে, তার গ্যারান্টি কোথায়? এই প্রশ্নটিই ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধ্যাপক ইসলামি দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরান কোনো দুর্বল অবস্থানে নেই। বরং তার মতে, আমেরিকা ইরানের প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলেও ইরানের অন্তত আরও তিন মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো 'হরমুজ প্রণালী'। এই প্রণালী ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে ইরান বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তার মতে, যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে বৈশ্বিক বাজার প্রায় ধসের দ্বারপ্রান্তে ছিল, আর এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতেই ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
আপাতত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পর্দার আড়ালে দড়ি টানাটানি চলছে চরমে। ইরান একদিকে যেমন তার আঞ্চলিক মিত্রদের (যেমন লেবানন) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে আমেরিকা চাইছে যেকোনোভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে। তবে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান এবং ইরানের সামরিক কমান্ডারদের প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই পুরো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানকে জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: আরব আমিরাত
আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলে হামলা অব্যাহত থাকবে: হিজবুল্লাহ