শান্তির সব সম্ভবনা উড়িয়ে দিয়ে চরমে পৌঁছে গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের কথা উপেক্ষা করেই ইউক্রেনের দুই রুশপন্থী অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়ে সেসব অঞ্চলে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সঙ্গত কারণেই রাশিয়ার এসব পদক্ষেপ নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগে থেকেই ক্রিমিয়া রয়েছে রাশিয়ার দখলে। এর পর দোনেৎস্ক আর লুহানস্ক অঞ্চলও যদি ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে যায়, তাহলে দেশটির শক্তি আরও কমবে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ওই দুই অঞ্চল হাতছাড়া হলেও তেমন জোরালো কোন প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি কিয়েভের কাছ থেকে। রুশ সেনা পাঠানোর নির্দেশকে ‘সার্বভৌমত্বের লংঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইউক্রেন।
.jpg)
যদি সত্যিই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বিষয়টিকে এভাবে নিয়ে থাকেন তাহলে এই দুই অংশ ধরে রাখতে হলে তাকে যুদ্ধে অংশ নিতেই হবে। যদি সেই পথে না যেতে চান, তাহলে কোন কথা না বলেই দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে জেলেনস্কিকে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জরুরি সভায় বসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু এই পরিষদে ভোটো ক্ষমতাধারী পাঁচ সদস্যের অন্যতম রাশিয়া। ফলে, সেখানে আলোচনা করে আদৌ কোনো প্রস্তাব পাস করা সম্ভব কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে আমেরিকা ওই দুই অঞ্চলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেছে, তাদের দেশের কোন নাগরিক সেখানে নতুন করে কোনো ধরনের বিনিয়োগ, ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। এমনকি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছেন জো বাইডেন।
.jpg)
রুশ সমর্থিত সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণার আগে পুতিন বিষয়টি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসকে জানিয়েছেন। এই দুই দেশকে আরো জানানো হয়েছে, তাদের পদক্ষেপে অনেকের সায় আছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার ক্রেমলিনে এই দুই অঞ্চলের বিদ্রোহী নেতাদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের চুক্তিতে সই করেছেন। পুতিন বলেছেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
এদিকে, রাশিয়ার সীমানায় অনধিকার প্রবেশ করছে ইউক্রেনের গুপ্তচররা। এই গুপ্তচরদের আটক করে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের গুপ্তচর নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই কিয়েভকে সতর্ক করে আসছিলো মস্কো।
একাত্তর/টিএ
