ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় সোমবার সকালে। ভোটে বিশাল জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আছেন দেশটির প্রয়াত স্বৈরশাসকের পুত্র মার্কোস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই জয় নিশ্চিত হলে, প্রায় ৩৬ বছর পর আবার ফিলিপাইনের ক্ষমতায় আসবে মার্কোস পরিবার।
মার্কোস জুনিয়রের বাবা ফার্দিনান্দ মার্কোস ছিলেন ফিলিপাইনের স্বীকৃত স্বৈরশাসক শাসন। ১৯৮৬ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। যদিও ১৯৯০ -এর দশকে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসে মার্কোস পরিবার এবং তখন থেকে আবার রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠে পরিবারটি।
নিজ দেশে 'বংবং' নামে সুপরিচিত মার্কোস পেয়েছেন দুই কোটি ১৭ লাখ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং দেশটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রব্রেডোর পেয়েছেন এক কোটি ৩০ লাখ ভোট।

মার্কোস বনাম লেনি
দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের মত জানিয়েছেন। মোট ভোটার ছয় কোটি ৭৫ লাখ আর প্রবাসী ভোটার এক কোটি ৭০ লাখ।
মার্কোসের মুখপাত্র ভিক রদ্রিগেজ বলেছেন, বংবং তার দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে এখনও জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা ঠিক হবে না। শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে 'শেষ' বলা যাবে না।
এর আগে মার্কোস একজন গভর্নর, কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বোন ইমি বর্তমানে একজন সিনেটর এবং মা ইমেল্ডা একজন প্রভাবশালী লবিস্ট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন মার্কোস। ফলে নির্বাচনে অনেক শক্ত অবস্থানে আছেন তিনি।

ভোট দিতে আসা নাগরিকদের একাংশ
এদিকে সোমবার অনানুষ্ঠানিক ভোট গণনার পর সমর্থকদের একটি ছোট দল মার্কোস প্রচারণা সদর দফতরের বাইরে জড়ো হয় এবং "মার্কোস, মার্কোস, মার্কোস" বলে স্লোগান দেয়।
আরও পড়ুন: বিজয়ের দিনে ইউক্রেনে হামলা তীব্র করলো রাশিয়া
মার্কোসের বাবা স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস ১৪ বছর দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে তিন হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। এছাড়া সে সময় দেশটিতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে যায়।
ফলে মার্কোস জুনিয়রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ফিলিপাইনের অনেকেই উদ্বিগ্ন। অনেকের শঙ্কা, মার্কোসের হাট ধরেই ফিলিপাইনে দমনপীড়নের একটি নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।
একাত্তর/আরবিএস
