আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে অভিযান সমাপ্ত করবে নাসার ইনসাইট ল্যন্ডার। এর আগে নাসা জানালো, এই গ্রহে একটি উল্কার আঘাত হানার কথা ইনসাইট শনাক্ত করেছিলো।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) নাসা জানায়, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি বিশাল আকারের বরফের খণ্ড উপড়ে ফেলেছিল উল্কাপিণ্ডটি।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে মঙ্গল গ্রহে উল্কার আঘাত পর্যবেক্ষণ করে ইনসাইট। এ আঘাতের ফলে গ্রহটিতে ভূমিকম্প হয়, যা মঙ্গলের বাইরের আবরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য দেয়।
তবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় গত ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলে একটি উল্কার আঘাত হানার কথা। অ্যামাজনিস প্ল্যানিটিয়া নামের একটি অঞ্চলে আঘাত হেনে উল্কাটি ৪৯২-ফুট চওড়া ও ৭০-ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি করে। এর ফলে মঙ্গলে চার মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির মহাজাগতিক ভূ-পদার্থবিদ ও ইনসাইট মিশনের প্রধান তদন্তকারী ব্রুস বানেরড জানিয়েছেন, ধূলিঝড়ের কারণে ইনসাইট ল্যন্ডারের সোলার প্যানেলে ধূলা জমে গেছে। ফলে এটির ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে আসছে।
মঙ্গল গ্রহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও ভূকম্পন-সংক্রান্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে আসছে ইনসাইট। ২০১৮ সালে দুই বছরের জন্য এই অভিযান পরিকল্পনা করা হলেও, পরে সময় বাড়িয়ে চার বছর করা হয়।
আরও পড়ুন: মহাকাশে যুদ্ধ বাধার সম্ভাবনা কতটুকু?
এই চার বছরে মঙ্গল গ্রহে এক হাজার ৩১৮টি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করে ইনসাইট। তবে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে ইনসাইটের সাথে সব যোগাযোগ হারিয়ে ফেলবে নাসা।
ব্রুস বানেরড বলেন, ইনসাইটের সহায়তায় মঙ্গলের বাইরের আবরণের পুরুত্ব ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য এবং গ্রহটির কেন্দ্রের আকার ও ঘনত্ব জানা গেছে। প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বাইরের একটি গ্রহের অভ্যন্তরের বিস্তৃত মানচিত্র পেয়েছি আমরা।
