'নাশকতামূলক' কর্মকাণ্ডের পর ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সেখানে নিযুক্ত রাশিয়ান প্রশাসন।
রোববার (৬ নভেম্বর) টেলিগ্রাম অ্যাপে এক পোস্টে খেরসন প্রশাসন জানায়, 'সন্ত্রাসী হামলায়' ওই অঞ্চলের তিনটি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করলেও এ অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেরিস্লাভ-কাখোভকা হাইওয়ের ইউক্রেন অংশে ইউক্রেনীয় হামলার ফলে তিনটি উচ্চ ভোল্টেজের কংক্রিটের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের কয়েকদিনের মধ্যেই রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া খেরসন এই প্রথম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলো।
এদিকে, খেরসন অঞ্চলের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত কাখোভকা বাঁধটি ইউক্রেনের হামলায় 'ক্ষতিগ্রস্ত' হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থার বরাতে রাশিয়ার গণমাধ্যম জানায়, সকাল ১০টার দিকে ছয়টি হিমারস রকেট হামলা চালানো হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে পাঁচটিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হলেও, একটি কাখোভকা বাঁধে আঘাত হানলে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে বাঁধটির ক্ষয়ক্ষতি তেমন গুরুতর নয় বলে এক রুশ কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তি।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন তার মধ্যে একটি হলো খেরসন।
খেরসনের মস্কোর নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালসোর বরাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাস জানায়, দিনের শেষে শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রথম মানুষের শরীরে দেয়া হলো পরীক্ষাগারে তৈরি রক্ত
'দ্রুত' এই সমস্যার সমাধান করতে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন জানিয়ে লোকজনের প্রতি 'শান্ত থাকার' আহবান জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনীয় হামলার আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খেরসনের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
একাত্তর/এসজে
