চার হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে ছয় মাস ১৩ দিন পর সৌদি আরবের মক্কায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানি তরুণ উসমান আরশাদ। এই দীর্ঘ পথযাত্রায় পাকিস্তান থেকে ইরান, বাহরাইন ও আমিরাত হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ বছর বয়সী যুবক উসমান।
উসমান আরশাদ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ওকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী। চার হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান তিনি। প্রতিদিন তিনি ৩৫-৬০ কিলোমিটারের মতো পথ হেঁটেছেন।
উসমান বলেন, সব মুসলমানের ইচ্ছা থাকে আল্লাহর ঘর মক্কায় আসা। নিজের জীবনে একবার হলেও মহানবীর মসজিদ পরিদর্শন করার। আমারও এই ইচ্ছা ছিল। তবে আমি এই দু জায়গায় পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে চেয়েছি।

হজ আদায়ের স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে দুর্গম মাতৃভূমি পাঞ্জাবের ওকারা থেকে এই সফর শুরু করেন উসমান। যাত্রা শুরুর পর থেক প্রতিদিন তিনি ৩৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। ছয় মাস ১৩ দিন পর ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে পৌঁছান তিনি।
এই পাকিস্তানী যুবক বলেন, যাত্রাপথে এমনও অনেক রাস্তা ছিল, যেখানে কোন শহর বা গ্রাম ছিলো না। কিন্তু আমার দৃঢ় সংকল্পই আমাকে পথ চলতে সাহায্য করেছিল। উসমান শুধু একটি ব্যাগ, ছাতা ও ট্রেকিং জুতা নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
সৌদি আরব পৌঁছতে তিনি ইরান, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পথ বেছে নেন উসমান। এ সময় তার পায়ে ফোসকা পড়ে গেলেও যাত্রা থামিয়ে দেননি।
এনিয়ে তিনি বলেন, আমি সবসময় হাঁটা পছন্দ করি - আমি এর আগে পাকিস্তানে ১ হাজার ২৭০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে শেষ করেছি। যেটি আমাকে এ যাত্রা সম্পূর্ণ করতে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। যাত্রা পথে কিছু বাধা ছিল, যেমন খারাপ আবহাওয়া, হাঁটার কারণে পায়ে ফোসকা।
এই সফরে পাকিস্তানি এই যুবক অন্তত ৮ লাখ ৫০ হাজার পাকিস্তানি রুপি খরচ করেছেন। উসমান যখন সফর শুরু করেন, তখনও হজের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে যাত্রা শুরুর সময় তার কাছে ওমরাহর ভিসা ছিলো। পরবর্তীতে মক্কায় পৌঁছলে পাকিস্তান হজ মিশন ও সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তার হজ ভিসা পান তিনি।
একাত্তর/এআর
