রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্ব উৎখাতের ঘোষণা দেয়া ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ের এক সূত্রের বরাতে রুশ বার্তাসংস্থা তাস এ খবর জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাতিল করা হয়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরেকটি রুশ দৈনিক পত্রিকা সোমবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ২৬ জুন সকাল পর্যন্ত প্রিগোজিনের সশস্ত্র বিদ্রোহের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলা বাতিল করা হয়নি। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)।
এদিকে, মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়া ওয়াগনারকে যে ২০০ কোটি ডলার দিয়েছিল, তার অপব্যবহার হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত করা হবে।
ক্রেমলিনে রুশ সেনাদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেছেন, তিনি সবসময়ই ওয়াগনার যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করেছেন। তবে যেহেতু ‘রাষ্ট্রীয় কোষাগার’ থেকে গোষ্ঠীটির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হয়েছে, তাই এক্ষেত্রে তদন্ত প্রয়োজন।
পুতিন বলেন, ‘আশা করি এক্ষেত্রে কেউ কিছু চুরি করেনি, অথবা সামান্য করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে।’
অবশ্য বক্তব্যের কোথাও সরাসরি প্রিগোজিনের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
শনিবার রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছিল, ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এফএসবি। প্রিগোজিনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তার বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর এই তদন্ত শুরু হয়।
ওই ভিডিও বক্তব্যে ওয়াগনার যোদ্ধাদের ওপর রুশ সেনারা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাতে রুশ সামরিক নেতাদের উৎখাত করার ঘোষণা দেন প্রিগোজিন।
প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে রুশ আইনের যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে সেটির সাজা ১২ থেকে ২০ বছর কারাদণ্ড।
এর আগে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শনিবারই ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় প্রবেশ করে ওয়াগনার যোদ্ধারা। তারা রাশিয়ার রোস্তভ শহরের সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে তারা মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেয়।
পরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় প্রিগোজিন মস্কো অভিমুখে না গিয়ে নিজের যোদ্ধাদের ঘাঁটিতে ফিরতে বলেন। তখন প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মামলা প্রত্যাহার করা হবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে বেলারুশে নির্বাসনের পাঠানোর বিষয়ে সম্মতির কথা জানিয়েছিল ক্রেমলিন।
একাত্তর/এসজে
