গ্রিসের রোডস পর্যটন দ্বীপে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অন্তত ১৯ হাজার মানুষ। কোরফু দ্বীপে দাবানলের জন্য 'একদল মানুষ'কে দায়ী করেছেন স্থানীয় মেয়র।
চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরার্মশ দিয়েছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীও। এদিকে, দাবানল থেকে বাঁচতে হোটেল ছেড়ে পালাচ্ছেন পর্যটকরও।
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে গ্রিস। এরইমধ্যে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে রোডস দ্বীপে আগুন। দ্বীপটিতে আগুন জ্বলছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে।
এরইমধ্যে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে হাজারও মানুষ। প্রতি মুহূর্তে ছোট ছোট ফেরিতে করে নিরাপদ জায়গায় চলে যাচ্ছে বাসিন্দারা। তবে এখন পর্যন্ত কারো আহত হবার খবর নেই।
কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই আরও আগুন ছড়িয়ে পড়ার বিরাট ঝুঁকি আছে। বিপর্যয়কর দাবানল মোকাবেলায় হিমশিম দেশটির কোরফু এবং ইভিয়া দ্বীপের কর্তৃপক্ষও।
তাই সেখানকার মানুষজনকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোরফুর উপ-মেয়র দাবানলের জন্য 'একদল মানুষ'কে দায়ী করেছেন।
রোডস দ্বীপে হোটেল ছেড়ে যারা চলে যেতে বাধ্য হয়েছে তাদেরকে ফিরতি ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় বিমানবন্দরে, শপিং মলে, কনফারেন্স সেন্টারে কিংবা রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে।
যানবাহন না পাওয়ায় অনেককেই দেখা গেছে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে বিমানবন্দরে বা ফেরিঘাটে পৌঁছেছেন।
ব্রিটিশ এক পর্যটক বলেন, হোটেল পুলের পাশে বসে থাকার সময়ই আগুনের শিখা দেখেছিলাম। পুলিশ এসে কিছুক্ষণের জন্য সৈকতে যেতে বলায় সেখানে আমরা প্রায় আধ ঘণ্টার মতো ছিলাম।
পরে আগুনের ধোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে হোটেল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছ। এরপর গরমে হেঁটেই বিমানবন্দরে পৌঁছেছি।
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এখন প্রচণ্ড বাতাসসহ দাবানলের সাথে লড়াই করছে গ্রিসের রোডস দ্বীপ। দেশটিতে তাপমাত্রা বাড়ছে।
দেশজুড়েই এই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়ে গেছে। গ্রিক প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোডস দ্বীপে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস না পাওয়া পর্যন্ত সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরার্মশ দিয়েছেন তিনি।
দ্বীপটিতে দ্বিতীয় দিনের পর দাবানল কিছুটা কমে আসলেও অগ্নিনির্বাপণের চেষ্টা মাঝেই বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন।
একাত্তর/এআর
