ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের সেবা মণ্ডলের ‘মহাগণপতি’, সম্ভবত দেশটির সবচেয়ে ধনী মূর্তি হিসাবে বিখ্যাত। কারণ এটিকে সব সময় মূল্যবান অলংকারে সজ্জিত করা হয়। যা প্রতি বছর আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে আলোচনায় আসে। এ বছর সাড়ে ৬৬ কেজি স্বর্ণালংকার, ২৯৫ কেজিরও বেশি রুপা এবং অন্যান্য মহামূল্যবান পাথর দিয়ে সাজানো হয়েছে।
সোমবার, জিএসবি সেবা মন্ডলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, শহরের পূর্ব অংশের কিংস সার্কেলে মন্ডলটি তার ৬৯তম বছর উদযাপন করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে সেখানে আগত ভক্তদের মুখের ছবি তুলে রাখা হচ্ছে। বসানো হয়েছে নজরদারির আধুনিক সব ব্যবস্থা। রয়েছে কড়া পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা। তিনি আরও জানান, এ বছর গণেশ মূর্তির জন্য ৩৬০ কোটি রুপির বেশি বীমা করা হয়েছে।
কলকাতায় দুর্গাপূজা যেমন, তেমনি মুম্বাইয়ে গণপতি। গণেশ পূজা ভারতের বহু জায়গায় হলেও, উন্মাদনায় মুম্বইয়ের ধারে কাছে কোনো রাজ্য দাঁড়াতে পারে না। গণেশ চতুর্থীর চারদিন আগে গণপতি বাপ্পার ফিতে কাঁটা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেও জিএসবি সেবা মণ্ডলের ‘মহাগণপতি’ আলাদা করে নজর কেড়েছে। ঢালাও স্বর্ণ ও রুপার আলঙ্কারে সাজানো এই গণেশই ভারতের সবচেয়ে দামি গণপতির মূর্তি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে গণেশ চতুর্থী পড়েছে মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর। শুভদিনে দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে বিশেষ অধিবেশন বসবে।
উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের মতোই হায়দারাবাদ শহরের বাসিন্দরাও গণপতি পূজার আনন্দে মাতেন। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবাংলায়ও গণেশ পূজার ধুম পড়েছে। শহর ও শহরতলিতে হু-হু করে বাড়ছে বারোয়ারি গণেশ আরাধোনা।
শিব পুরাণে আছে, কৈলাসে নিজের স্নান ঘরে একদিন দেবী পার্বতী স্নান করতে যান। যাওয়ার সময়ে দরজার কাছে ভগবান শিবের অনুচর নন্দীকে দ্বাররক্ষী রাখেন। বলে দেন, তিনি স্নান করার সময় কেউ যেন সেখানে প্রবেশ করে না। কিন্তু হঠাৎ দেখা যায়, মহাদেব সেখানে হাজির হন। নন্দী তাকে বাধা দেন না।
এতে নন্দীর উপর দেবী খুব রেগে যান এবং তাকে ভর্ৎসনা করেন। তখন তিনি একজন অনুগামী কামনা করে তার দুই বান্ধবী জয়া এবং বিজয়ার সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা তাকে পরামর্শ দেন জলাশয় থেকে মাটি নিয়ে তিনি যেন একটি শিশু মূর্তি তৈরি করেন। তার পরে তাতে হাতির মাথা বসিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই গণেশ। আর শিব ও পার্বতীর অনুসারীরা তাই গণেশকে অনেক বেশি মান্য করেন।
