অনন্ত আম্বানি। আপনি শুনলে অবাক বনে যাবেন যে আম্বানি পরিবারের ছোট্ট ছেলেটি অনন্ত প্রাণ-প্রকৃতি-বন্যপ্রাণীদের কতটা ভালোবাসেন। অনন্তের প্রাক-বিয়ের আয়োজনও হয়েছে তার প্রিয় স্থান জামনগরে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ওয়াক অন দ্য ওয়াইল্ডসাইড-এর আয়োজন করেছিলো আম্বানি পরিবার। আর সেটাই হচ্ছে অনন্ত আম্বানীর পশু পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারা।
নিজের ভালোবাসার পশুদের দেখাতে বিশ্বের বড় বড় বিজনেস টাইকুন থেকে শুরু করে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি তারকারা। আম্বানীদের বেঁধে দেয়া জঙ্গল ফিবার থিমে পোশাক পরেছেন অতিথিরা। ঘুরে দেখেছেন ছোট আম্বানীর স্বপ্নের বিশাল এক পৃথিবীকে। যাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পশু উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রটি।
পশুদের নিয়ে এমন ভাবনাটাইবা কজন ধনী ভেবে থাকেন। কিন্তু পশুদের প্রতি ২৮ বছর বয়সী অনন্তের অগাধ ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বনতারা। শুধু তাই নয়, বরাবরই সেই ছোটবেলা থেকে পশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন আম্বানীপুত্র। সেই সময় থেকেই পশু-প্রাণী কল্যাণের দিকে অনন্তের তীব্র উৎসাহ-উচ্ছ্বলতা। পশুদের কষ্ট সইতে পারেননা তিনি।
যার ফলশ্রুতিতে পশু উদ্ধার, স্বাস্থ্য পরিষেবা দেয়া, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর। বনতারাকে সত্যি সত্যিই বিশাল এক বনে রূপ দিয়েছেন অনন্ত। সেখানে খোলা জায়গায় বিচরণ করছে হাতি, কুমিরসহ বহু প্রাণির অবাধ বিচরণ। এখন পর্যন্ত ৪৩ প্রজাতির ২ হাজার বন্যপ্রাণীকে পুনর্বাসন করেছেন ছোট আম্বানি। আছে ৪৩টি প্রজাতি।

বনতারায় আছে ২০০ হাতি, তিনশ’র বেশি আছে চিতাবাগ, জাগুয়ার, বাঘ, সিংহ। তিনশ’টির বেশি তৃণভোজী হরিন, কুমির, সাপ, কচ্চপসহ ১২শ’ টির বেশি সরীসৃপ প্রাণি। যেন জামনগরের বুকে প্রকাণ্ড এক খোলা চিড়িয়াখানা তৈরি করেছেন অনন্ত। বিভিন্ন বিদেশি পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে অনন্তের বনতারা। সেখানে আছে বন্যপ্রাণীদের জন্যে বিশাল বড় এক হাসপাতাল। আছে গবেষণা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে অনন্তের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিশেষ গুরুত্ব পায় হাতিরা।
জামনগরে তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স এর সাথেই বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে ‘বনতারা’। প্রাণীরা যাতে প্রাকৃতিক আবাসস্থলের কাছাকাছি থাকতে পারে, সেজন্য এই সুবিধা তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে বিশাল সংখ্যার পশু, সরীসৃপ আর পাখিদের স্থান হয়েছে বনতারা। কোন প্রাণীকেই সেখানে বন্দি রাখা হয়নি। এই প্রকল্পে কোন ব্যবসায়ীক লাভ নেই বলেও জানিয়েছেন অনন্ত আম্বানি।
বন্যপ্রাণের প্রতি বাবার বিশেষ ভালোবাসার কথাও বলেছিলেন অনন্ত। তাইতো কম বয়সে বাবা মুকেশ আম্বানির জঙ্গল সাফারির প্রতি উৎসাহ এবং উদ্যম নিজ চোখে দেখেছেন। সেটাই এই বিশাল উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সেজন্যেই আজ এই প্রকল্পে এবং পশুদের কল্যাণে কাজ করতে প্রবল উৎসাহী অনন্ত। প্রায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আফ্রিকা, রণথম্ভোর কিংবা কানহা, বান্ধবগড় ও কাজিরাঙ্গার মতো জঙ্গল ছাড়া আর কোথাও পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যাননি অনন্ত।
কারণ, বাবা মুকেশ আম্বানি শুধু জঙ্গলেই নিয়ে যেতেন পশুদের দেখাতে। যেহেতু গৃহপালিত পশুদের জন্যে পুরো দেশ কাজ করছে, সেহেতু অনন্ত বেছে নিয়েছেন বন্যপ্রাণীদের। জীব সেবাকে পরম ধর্ম মনে করেন ছোট আম্বানি। শুধু বাবাই নয়, মা নীতা আম্বানীর প্রেরণাতেও বনতারা নিয়ে এতদূর পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন অনন্ত। ছুটি কাটাতে সবাই ছুটে যান জামনগরে।
এক সাক্ষাতকারে অনন্ত বলেছেন, দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। এরমধ্যে দুনিয়া উল্টে গেলেও দেড় ঘণ্টা বরাদ্দ থাকে বনতারার জন্যে। বাকিটা বাবার জন্যে উৎসর্গ করেন তিনি। এমনকি সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতেও চলে যান নিজের প্রিয় পশুদের কাছে।
তবে অনন্তের ব্যস্ততার জন্যে মাঝেমধ্যেই একটু বিরক্ত হন হবু বৌ রাধিকা। তবে এখন তিনিও বনতারার প্রেমে পড়েছেন। অনন্তের চাইতেও প্রাণীদের বেশি খেয়াল রাখেন হবু বধূ।
২০০৮ সালে প্রথম হাতিদের উদ্ধার শুরু করেন অনন্ত। করোনাকালীন সময়ে বনতারাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে শুরু করেছিলেন তিনি। যখন পুরো বিশ্বের মানুষ ভুগছিল, তখনই সবুজায়নের দিকেও নজর দেন অনন্ত। ২০২০ সাল থেকে শুরু হয় গ্রিনস জুলজিক্যাল রিসার্স অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টার।

সেখানে কাজ করছে প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এরমধ্যে আছেন প্রবাসীরাও। তারা শিক্ষকের ভূমিকায় কাজ করছেন। অল্প বয়সী স্নাতকদের কাজে নিয়েছেন তারা। এমনকি প্রাণীদের প্রতি উৎসাহী কিছু মানুষের চিকিৎসকও কাজ করছে বিশাল এই প্রকল্পে।
কত টাকার মালিক রাধিকা, শুনলে চমকে যাবেন