প্রচন্ড গরমে যেন ফুটছে লাতিনের সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। তীব্র তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস অবস্থা দেশটির নাগরিকদের। স্বস্তির আশায় সবাই ছুটছেন সৈকতে। রোববার ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী রিও ডি জেনেরিও’র পারদ উঠেছিলো ৬২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
তীব্র দাবদাহে রিও ডি জেনেরিওতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ ও বেশ কিছু অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দাবদাহের তীব্রতা থেকে থেকে বাঁচতে সমুদ্র সৈকত আর সুইমিং পুলে ছুটে যাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত গোসলের পানিও পাচ্ছেন না অনেকে।
রিও ডি জেনেরিও’র স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর আলের্তা রিও ওয়েদার সিস্টেম জানিয়েছে যে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে রিও ডি জেনেরিওর পশ্চিমাংশে ৬২ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তারপর থেকে অবশ্য তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সোমবার রিও ডি জেনেরিও এবং তার আশপাশের এলাকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ব্রাজিলের ইতিহাসে এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডটি ছিল ৫৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত নভেম্বরে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। অস্বাভাবিক মাত্রায় গরম বেড়ে যাওয়ার পেছনে নির্বিচারে গাছ কাটা, বন উজাড় করা, বহুতল ভবন, মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন বেড়ে যাওয়াকে দুষছেন আবহাওয়াবিদরা।
দেশটির আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রেকর্ড করা তাপমাত্রা দিয়ে গরমের তীব্রতা বিচার করলে হবে না। এর সঙ্গে আদ্রতাসহ বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। সেসব বিবেচনায় রিও ডি জেনেরিওর মানুষ এখন প্রায় সাড়ে ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভব করছে। এটিকেই বলে ‘ফিলস লাইক টেম্পারেচার’।
আবহাওয়াবিদ রাকুয়েল কোরিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ যেভাবে জনসংখ্যা আবাসন বাড়ছে, বনভূমি উজাড় হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তীব্র গরম-অতিবৃষ্টি-বন্যা-খরা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

তীব্র গরম ও তাপদাহ থেকে বাঁচতে রিও’র দুই বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত ইপানেমা এবং কোপাকাবানায় রোববার ও সোমবার উপচে পড়া ভিড় ছিলো বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রিও’র বাসিন্দারা বলছে, তাদের ভয় হচ্ছে এই ধরনের আবহাওয়া হয়তো এখন থেকে নিয়মিতই দেখতে হবে তাদের।
এদিকে ব্রাজিলের একাংশ যেমন তীব্র তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস দেশটির নাগরিকদের, অন্য অংশ তেমনি ভেসে যাচ্ছে তুমুল বর্ষণে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক বর্ষণ। অন্তত এক সপ্তাহ এই বর্ষণ স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর মেটসুল।
পাপুয়া নিউ গিনিতে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ২৩