টানা কয়েকদিনের দাবদাহে নাকাল ভারত। রাজধানী দিল্লিসহ উত্তরের রাজ্যগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মকালজুড়ে চলা তীব্র দাবদাহে দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হিটস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। এরইমধ্যে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, দেশটিতে ১ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হিটস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে হিটস্ট্রোকের কারণে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় শহরগুলো 'তাপ ফাঁদে' পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর ভারতে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে। প্রবল দাবদাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। কারণ মার্চ মাসে গ্রীষ্মের শুরুর পর থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিলো।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজ্য সরকারগুলোকে রোগীদের প্রতি ‘অবিলম্বে মনোযোগ’ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
এসবের মধ্যেই রাজধানী দিল্লির হাসপাতালগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তা সত্ত্বেও হাসপাতালগুলোকে আরও শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে শুধু মানুষ নয়, দাবদাহে অতিষ্ঠ পাখি ও গবাদিপশু। গেলো কয়েক সপ্তাহে দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় গরমে বহু গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে।

অলাভজনক ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও কার্তিক সত্যনারায়ণ বলেন, চলমান তাপপ্রবাহের সময় আমরা যতগুলো পাখি উদ্ধার করেছি, তার অধিকাংশই দাবদাহের কারণে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে আহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গেলো দুই সপ্তাহে ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০টিরও বেশি রেসকিউ ফোনকল পেয়েছে। বেশিরভাগ কলেই পাখি উদ্ধারের অনুরোধ এসেছে।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে রাজ্যটিতে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সিজু দাস বলেন, ভূমিধসে একজন নারী ও তার তিন মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

আসামে এক লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কপিলিতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মে মাসের শেষ থেকে আসামে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হিটস্ট্রোক বা আতপাঘাত
আতপাঘাত কিংবা ইংরেজি পরিভাষায় হিটস্ট্রোক হলো একটি গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতা যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হয়ে যায়।
হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক লাল হয়ে যায়, সাথে থাকে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বিভ্রান্তি বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
অতিরিক্ত গরম এবং পানিশূন্যতা এড়ানোর জন্য সাবধানতা অবলম্বন করে আতপাঘাতের (হিটস্ট্রোক) ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরলে শরীরের ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার সুযোগ পায় এবং এভাবে শরীর শীতল থাকে। হালকা রঙের চ্যাপ্টা বড় টুপি সূর্যের উত্তাপ থেকে মাথা ও ঘাড় উত্তপ্ত হওয়া রোধ করতে সহায়তা করে। গরম আবহাওয়ার সময় কঠোর ব্যায়াম করা পরিত্যাজ্য। পাশাপাশি সূর্যের প্রচণ্ড তাপদাহের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের সুবিধাযুক্ত স্থান ব্যতীত যেকোনো বদ্ধ স্থানে অবস্থান (যেমন মোটরগাড়ীর ভেতরে থাকা) এড়িয়ে চলা উচিত।
হজযাত্রীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯২২, নিখোঁজ অনেকে
বিষাক্ত মদ পানে ৩০ মৃত্যু, অসুস্থ শতাধিক