ভারতে লোকসভার পর রাজসভাতেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কঠিন সময় দিলো বিরোধী দল। মোদীর ভাষণের সময় মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে সরব হন বিরোধীরা। কথা বলার অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখান হবার পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে বিরোধী সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
বুধবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু, লোকসভার মতোই মোদীর ভাষণের শুরু থেকে বিরোধিতা শুরু করে বিরোধীরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাকে বলতে দেয়ার দাবিতেও সোচ্চার হয়ে উঠেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময় বিরোধী দলনেতাকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেননি রাজ্যসভার চেয়ারপার্সন। আর এর জেরেই কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলো রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে যায়। বিরোধীদের তীব্র নিন্দা করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়। কিন্তু তাতে কোনোই কর্ণপাত করেননি বিরোধীরা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের সময় বিরোধীরা রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ইঙ্গিত করে বলেন, ওরা (বিরোধী দল) অটো পাইলট এবং দূর থেকে সরকার চালাতে অভ্যস্ত। তারা কাজ করতে বিশ্বাস করে না, তারা শুধু অপেক্ষা করতে জানে।

মোদী বলেন, নিজেদের করা প্রশ্নেরই জবাব শুনতে পারছে না বিরোধীরা। ওরা শুধু পালাতে পারে। সেখানেই আমরা কঠোর পরিশ্রমে কোনও খামতি রাখিনি।
বিগত ১০ বছরে আমরা যা কাজ করেছি, এবার তা আরও বাড়ানো হবে। আমাদের যে স্বপ্ন, তাতে এই ১০ বছর শুধু সূচনা ছিল, এবার মূল কাজ শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৬০ বছর পর দেশের মানুষ টানা তৃতীয়বার কোনও সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু মানুষ জনগণের সেই রায়কে ব্ল্যাক আউট করার চেষ্টা করছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদেরই পরাজয় হচ্ছে। বিরোধীদের অ্যাজেন্ডাকেই এই নির্বাচিত পরাজিত করেছেন দেশবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের মাঝেই বিরোধী সদস্যরা একটানা স্লোগান দিতে থাকেন যে ‘এলওপি-কো বলনে দো’। কিন্তু মোদীর বক্তব্য না থামানোয়, তারা স্লোগান বদলে ‘ঝুট বোলনা বন্ধ করো’, ‘শরম করো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিরোধীদের বক্তব্য রাখার অনুমতি দেননি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান।
এরপরই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা একযোগে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধীদের বেরিয়ে যেতে দেখে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অসত্য ছড়ান, তাদের সত্য শোনার ক্ষমতা নেই, তা গোটা দেশ দেখছে। রাজ্যসভার অপমান করছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কথাই বলতে দেননি চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়।
বিরোধীদের এই আচরণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই, কিছু মানুষ যারা সংবিধান দিবসের বিরোধিতা করেছিল, তারাই সংসদে সংবিধান হাতে নিয়ে সুর চড়াচ্ছে। আমাদের সংবিধান লাইট হাউসের মতো কাজ করে, আমাদের দিশা দেখায়। এর শব্দও আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
বিরোধীরা ওয়াকআউট করার পর ধনকড় বলেন, তারা শুধু সংসদ ছেড়ে যাননি, আদতে তারা মর্যাদা ছেড়ে গিয়েছেন। তারা আমাকে পিঠ দেখাননি, ভারতের সংবিধানকে পিঠ দেখিয়েছেন। এর থেকে ভারতের সংবিধানের এতো বড় অপমান আর কি হতে পারে, এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
আম্বানি পুত্রের বিয়ের কার্ড যেন রত্নভাণ্ডার!
বাফেটের মৃত্যুর পর সম্পদের মালিক কে?