এফ-সিক্সটিট! নামটি উচ্চারিত হলেই সবার চোখে ভেসে উঠে দুর্দান্ত এক যুদ্ধবিমান। আমেরিকার তৈরি এই উড়ান আধুনিক আকাশযুদ্ধে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করায়, এখন এক নামেই সবাই চেনে। এরপর আরও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি হলেও কমব্যাট বা ডগ ফাইটে এফ-সিক্সটিন এখনও অপ্রতিরোধ্য নাম।
ইউক্রেনকে দেয়া এফ-সিক্সটিনের বহর থেকে একটিকে ধ্বংস করে রীতিমতো আলোচনায় রাশিয়া। ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পরই যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কাছে এফ সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের আকুতি জানিয়ে আসছিলেন কিয়েভের কর্তা ভলোদিমির জেলেনস্কি। বহু নাটকীয়তা আর টানাপোড়েনের পর ২০২৩ সালে কিয়েভকে সেগুলো পাঠাতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র।
এক বছর ধরে ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয় ন্যাটো দেশগুলো। সবশেষ গেল জুলাইয়েই ইউরোপীয় দেশগুলোর পাঠানো যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান পায় কিয়েভ। এ সময় অন্তত ছয়টি এফ সিক্সটিন হাতে পায় দেশটি। আর হাতে পেয়েই রাশিয়াতে হামলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে কিয়েভ।
তবে সরবরাহের এক মাসের মাথাতেই রাশিয়ার হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি এফ সিক্সটিন। নিহত হয়েছেন যুদ্ধবিমানটিতে থাকা ইউক্রেনীয় পাইলটও। ইউক্রেনের ফ্রন্ট লাইন থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যে কয়টি অস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম তার মধ্যে একটি এই এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমান। বিমানটি ধ্বংস করতে পারলে দেড় লাখ ডলারের বেশি পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছিলো ক্রেমলিন।
তবে রাশিয়ার বিশাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে এফ সিক্সটিন তেমন কোন কাজে আসবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন সামরিক বিশ্লেষকরা। এবার যেন সেই ভবিষ্যদ্বাণীরই প্রতিফলন ঘটলো যুদ্ধবিমানটি ধ্বংসের মাধ্যমে।
তবে এফ সিক্সটিন ধ্বংসে রাশিয়া নিজেদের ভান্ডারে থাকা কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেটিও এখনও ধরতে পারেনি পশ্চিমারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- ইউক্রেন এফ সিক্সটিন হাতে পাওয়ার পর নিজেদের অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বের করে এনেছে মস্কো।
আর উদ্বেগে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদেশগুলো। যুদ্ধবিমানটি ধ্বংসের এই কৃতিত্ব স্বীকার না করতেই এবার দাবি উঠছে, ইউক্রেনের নিজেদের হাতেই ধ্বংস হয়েছে বিমানটি। সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও কারিগরি জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানটি ধ্বংস হতে পারে বলেও তথ্য উঠে আসছে।
এফ-সিক্সটিন বিমান ধ্বংসের ঘটনায় এরইমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা মিকোলা ওলেসচুক। আসল কারণ খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও।
শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতির এফ সিক্সটিন তিন হাজার দুইশো কিলোমিটার দূরেও আঘাত করতে সক্ষম। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভারসাম্য আনতে অন্তত ১৩০টি এফ সিক্সটিন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। ২০২৫ সাল নাগাদ মিত্রদের কাছ থেকে অর্ধশত এফ সিক্সটিন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ইউক্রেন। তবে হাতে পাওয়ার পরই বিমানটি ধ্বংসের ঘটনায় বিপাকে পড়েছে দেশটি।
‘ইসরাইলের সব সেনা প্রত্যাহার ছাড়া যুদ্ধবিরতি সম্ভব না’
নারী নির্যাতন রুখতে ‘অপরাজিতা বিল’ আনছে পশ্চিমবঙ্গ