টানা চার বছরের টানটান উত্তেজনার পর, অবশেষে লাদাখ নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটালো ভারত ও চীন। পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতোই মঙ্গলবারের মধ্যে পূর্ব লাদাখের দেপসাং এবং ডেমচক এলাকা থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলেছে দেশ দু’টো। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার দীপাবলি উপলক্ষ্যে দু’পক্ষ মিষ্টি বিনিময় করেছে।
লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় পরস্পরের মধ্যে মিষ্টি বিনিময় করতে দেখা গেলো ভারতও চীনের সেনাদের। সেনা প্রত্যাহারের শেষেই আভাস পাওয়া গিয়েছিলো যে, দীপাবলি উপলক্ষে মিষ্টি বিনিময় করবে দুই দেশ। কথা মতো দুই দেশের সেনারা একে অপরের সঙ্গে মিষ্টির প্যাকেট বিতরণও করেছেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দীপাবলি উপলক্ষ্যে এলএসি বরাবর কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্টে ভারত এবং চীনের সেনার মধ্যে মিষ্টি বিনিময় হয়েছে। এলএসির কাছে পাঁচটি বর্ডার মিটিংয়ে এই মিষ্টি বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ২০২০ সালের আগের চেনা রূপে ফিরছে লাদাখ সীমান্ত।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সংঘাতে শহিদ হন ৪০ ভারতীয় সেনা। তারপর থেকেই চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে ক্রমাগত অবনতি হয়েছে ভারতের। এ পরিস্থিতিতে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীনের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য।
গত ২১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি বলেছিলেন যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পরে ভারত-চীনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং এটি ২০২০ সালে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। আপাতত লাদাখ সীমান্ত ঘিরে দুই দেশ কোনপথে হাঁটে সেদিকে তাকিয়ে বিশ্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা জানান, দেপসাং ও ডেমচক থেকে সেনা প্রত্যাহার শেষ হয়েছে, এখন যাচাই-বাছাই চলছে। এরপর কমান্ডাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন। ওই এলাকায় দু’দেশের সেনাই শিগগিরই আগের মতো টহলদারি শুরু করতে পারবে।
ভারতে চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেন, রাশিয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম দুই রাষ্ট্র প্রধানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক। যা দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটা জায়গা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করার দিক নির্দেশ করবে।

তিনি বলেন, এই সমঝোতাকে ভরসা করে দু’দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে মসৃণ গতিতে এগোবে। দু’দেশের নির্দিষ্ট কিছু মতানৈক্য তার উপর প্রভাব ফেলবে না। দু’টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পারস্পরিক বিভেদ মেটানোর পথ খোঁজা।
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গলওয়ানে ভারতীয় এবং চিনা সেনার প্রাণঘাতী সংঘাতের পর থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তির সূত্রপাত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক এলাকায় দু’দেশই মুখোমুখি সেনা মোতায়েন করে রেখেছিলও, বন্ধ হয়ে যায় টহলদারি।
দু’পক্ষের একাধিক কূটনীতিক ও সামরিক বৈঠকের পর দেখা মেলে সমাধানসূত্র। গত ২১ অক্টোবর ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়, দেপসাং এবং ডেমচকের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ।

সম্প্রতি সামনে আসা একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিলো, দেপসাং এবং ডেমচক থেকে সাঁজোয়া গাড়ি, অস্থায়ী সেনা ছাউনি সরিয়ে নিচ্ছে চীন। কিন্তু আগের মতো সব পয়েন্টেই কি টহলদারির অধিকার ফিরে পাবে ভারতীয় সেনারা, এমন প্রশ্ন তুলছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
ইসরাইল ছারখারের দিনক্ষণ জানালো ইরান