গত শুক্রবার ভোরে তেহরানসহ ইরানের বেশ কিছু এলাকার পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। জবাবে ফুঁসে উঠে ইরানও। ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনায় মিসাইল ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে জবাব দিতে শুরু করে তেহরান। শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিসাইল ও ড্রোন হামলা, যা টানা তৃতীয় দিনে গড়ালেও থামার লক্ষণ নেই। পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য।
ইরান মূলত তাদের হামলা জোরদার করে শনিবার রাত থেকে। একের পর এক হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে ইসরাইলে হামলা শুরু করে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের লাগাতার হামলায় কার্যত বিপর্যস্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে রোববার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিক্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা অবশ্যই ব্যাপক এবং অভূতপূর্ব। এই প্রথমবারের মতো ইসরাইল এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছে, যা অবশ্যই ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ ইয়ামে কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ৯ বা ১০টি ভবন মেরামতের অযোগ্য, কারণ উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
ইসরাইলি সরকারের এক বিবৃতি অনুসারে, ইসরাইলে ইরানের হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৩৮০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। আহতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর; বাকিদের সামান্য বা মাঝারি আঘাত রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলে ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশের ২২টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে দেশটির সুপরিচিত মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ চাপে পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন বিশ্লেষক।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মুহাম্মদ সেলুম বলেন, আয়রন ডোম মূলত স্বল্পপাল্লার রকেট ও মিসাইল ঠেকানোর জন্য তৈরি। কিন্তু এখন ইরান থেকে যেসব হামলা হচ্ছে, তা হচ্ছে ব্যালিস্টিক ও ক্রজ মিসাইল এবং হাইপারসনিক মিসাইল- যেগুলো আটকানো আয়রন ডোমের সক্ষমতার বাইরে।
তিনি জানান, ইসরাইলের কাছে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। যেমন, অ্যারো-১ অ্যারো-৩। যেগুলো প্রায় ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে। ‘ডেভিড স্লিং’ নামের আরেকটি ব্যবস্থা রয়েছে, যা মাঝারি দূরত্বে ২০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত আসা হামলাও প্রতিহত করতে সক্ষম।
মুহাম্মদ সেলুম বলেন, ইসরাইলের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং সমন্বিত হলেও তা চরম মাত্রার হামলায় ভেঙে পড়তে পারে। আর, গত ৪৮ ঘণ্টায় আমরা তারই উদাহরণ দেখেছি। তিনি আরও জানান, ইসরাইলের ভান্ডারে থাকা মিসাইলগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও ইরানের মজুদ নিয়ে পরিষ্কার কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে ইরানের ছোঁড়া মিসাইল নিয়ে ইসরাইলের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করতেই পারে।
তিন দিনে ইরানের ৭২০ সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি
ইসরাইলে নতুন করে মিসাইল হামলা চালালো ইরান