বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে নেপাল। জেন-জির প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নেপালজুড়ে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা বলা হলেও সবচেয়ে বেশি যে শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে তা হচ্ছে ‘নেপো কিডস’। কী ইতিহাস রয়েছে এই শব্দটির- যা গোটা প্রজন্মকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে!
নেপাল হিমালয়ের পাদদেশের এক শান্তিপ্রিয় দেশ। সেখানেই আজ উত্তাল তরুণ প্রজন্ম। রাজপথে নেমেছে হাজারো তরুণ-তরুণী। আর সেই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি শব্দ- নেপো কিডস।
এক সময় নেপালে রাজতন্ত্র ছিলো। এখন এক উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশ। তবে, এবার সেই গণতন্ত্রই প্রশ্নের মুখোমুখি। দেশটির হাজারো তরুণ এখন রাজপথে, হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে ক্ষোভ।

আর এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি হ্যাশট্যাগ- নেপোকিডস। এটা শুধু একটি শব্দ নয়, একটি বিদ্রোহের প্রতীকও। তবে, কী এই ‘নেপো কিডস’? কেনই বা এটি নেপালের তরুণদের ক্ষোভের ভাষা হয়ে উঠল?
নেপালে মূলত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলো এক নতুন সূচনা। তবে, বছরের পর বছর কেটে গেলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রয়ে গেছে ক্ষমতার কু-প্রভাব।
পরিবারতন্ত্র, আত্মীয়প্রীতি, এবং রাজনৈতিক সুরক্ষা- এই তিনে মিলে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী শ্রেণি। যাদের সন্তানরা আজ ‘নেপো কিডস’ নামে পরিচিত।

নেপালের যুব সমাজের দাবি- রাষ্ট্রীয় চাকরি, সুযোগ-সুবিধা, বিদেশে স্কলারশিপ- সবই ভাগ হয়ে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের মাঝে। যারা ‘নেপো কিডস’ নামে পরিচিত।

দেশটির তরুণদের মধ্যে একটি বড় অংশের অভিযোগ- সরকারি স্কলারশিপ থেকে প্রশাসনিক নিয়োগ, এমনকি এনজিও ও কূটনৈতিক পদেও অগ্রাধিকার পাচ্ছে রাজনৈতিক পরিবারগুলোর সদস্যরা।

জনগণের টাকায় চলা সুযোগগুলো হয়ে পড়েছে তাদের একচেটিয়া সম্পত্তি। মেধা নয় বরং পরিবারের পরিচয়ই হয়ে উঠেছে সাফল্যের চাবিকাঠি।
তবে, নতুন করে এই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এক ঘটনাকে ঘিরে। সরকারি বৃত্তি তালিকায় রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের নাম প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, নাগরিক সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীরা এক সাথে জড়ো হতে থাকে রাজপথে। জন্ম নেয়-‘অ্যান্টি নেপোটিজম মুভমেন্ট’।
নেপালে জানমাল ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলো সেনাবাহিনী