আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিতর্কিত সীমান্তে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ড প্রতিবেশী দেশটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলাও চালিয়েছে।
গত মাসে থাই সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একজন থাই সেনা পঙ্গু হবার পর ব্যাংকক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিত করার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। তারই ফলশ্রুতিতে দুই দেশের সীমান্ত আবারও অশান্ত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
২০২৪ সালে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং ১,২৪,৩০০ জন সক্রিয় সামরিক কর্মী ছিলো। ১৯৯৩ সালে দেশটির প্রাক্তন কমিউনিস্ট সামরিক বাহিনী এবং দুটি অন্যান্য প্রতিরোধ বাহিনীর একীভূতকরণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলও।
এর মধ্যে, কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী সবচেয়ে বড় বাহিনী, যার প্রায় ৭৫,০০০ সেনা রয়েছে, যাদের সমর্থনে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধ ট্যাঙ্ক এবং প্রায় ৪৮০টি কামান রয়েছে।
থাইল্যান্ড, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো বাইরে সবচেয়ে বড় মিত্র হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করে, তাদের একটি বিশাল, সুপ্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী রয়েছে, যার প্রতিরক্ষা বাজেট ২০২৪ সালে ৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার এবং ৩,৬০,০০০ এরও বেশি সক্রিয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছে।
থাই সেনাবাহিনীতে ২,৪৫,০০০ জন সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ১,১৫,০০০ জন কনস্ক্রিপ্ট, প্রায় ৪০০টি যুদ্ধ ট্যাঙ্ক, ১,২০০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান এবং প্রায় ২,৬০০টি কামান রয়েছে।
সেনাবাহিনীর রয়েছে নিজস্ব বিমান বহর, যার মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান, কয়েক ডজন মার্কিন-নির্মিত ব্ল্যাক হকের মতো হেলিকপ্টার এবং মনুষ্যবিহীন বিমানও আছে।
কম্বোডিয়ার বিমান বাহিনীর ১,৫০০ জন কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি পরিবহন বিমান এবং ১০টি পরিবহন হেলিকপ্টারসহ তুলনামূলকভাবে ছোট বিমান রয়েছে। দেশটির কোনও যুদ্ধবিমান নেই তবে ১৬টি বহুমুখী হেলিকপ্টার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি সোভিয়েত যুগের এমাআই-১৭ এবং ১০টি চীনা জেড-৯।
থাইল্যান্ডে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেরা সজ্জিত এবং প্রশিক্ষিত বিমান বাহিনীগুলোর মধ্যে একটি, যার রয়েছে আনুমানিক ৪৬,০০০ কর্মী এবং ১১২টি যুদ্ধবিমান; যার মধ্যে রয়েছে ২৮টি এফ-১৬ এবং ১১টি সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন হেলিকপ্টার।
কম্বোডিয়ান নৌবাহিনীর আনুমানিক ২,৮০০ কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে ১,৫০০ নৌ পদাতিক, ১৩টি টহল এবং উপকূলীয় যুদ্ধ জাহাজ এবং একটি উভচর অবতরণ জাহাজ রয়েছে।
থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী অনেক বড়, প্রায় ৭০,০০০ জন কর্মী নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে নৌ বিমান, মেরিন, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং কনস্ক্রিপ্ট রয়েছে।
এর একটি বিমানবাহী রণতরী, সাতটি ফ্রিগেট এবং ৬৮টি টহল ও উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। থাই নৌবহরে রয়েছে কয়েকটি উভচর এবং অবতরণকারী জাহাজ, যা শত শত সেনা ধারণ করতে সক্ষম এবং ১৪টি ছোট অবতরণকারী জাহাজ।
থাইল্যান্ডের নৌ বিমান বিভাগের নিজস্ব বিমান বহর রয়েছে, যার মধ্যে হেলিকপ্টার এবং মানুষ্যবিহীন উড়ান রয়েছে, এছাড়াও একটি মেরিন কর্পস রয়েছে যার ২৩,০০০ জন কর্মী রয়েছে, যাদের সমর্থনে ডজন ডজন সশস্ত্র যুদ্ধযান রয়েছে।
সামরিক সরঞ্জাম, বাজেট এবং প্রশিক্ষণের মানদণ্ডে থাইল্যান্ডের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট। বিশেষত বিমান বাহিনীতে তাদের অত্যাধুনিক ফাইটার জেট এবং নৌ বাহিনীতে বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি আঞ্চলিক শক্তিতে তাদের অবস্থানকে সুসংহত করে। তবে, কম্বোডিয়া তার সীমিত সামরিক শক্তি নিয়েও সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
