ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ব্যবসায়ী রবার্ট ভদ্রার ছেলে রায়হান ভদ্রা তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবী অবিভা বেগের সাথে বাগদান সেরেছেন। তারা গেলো সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন। অবিভা বেগের পরিবার দিল্লিতে বসবাস করেন এবং দুই পরিবারের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
তিন দিন আগে অবিভা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রায়হানের সাথে একটি ছবি আপলোড করেছিলেন, যা তিনি এখন তিনটি হার্ট ইমোজিসহ ‘হাইলাইটস’ সেকশনে যুক্ত করেছেন।

অবিভা বেগ কে?
অবিভা বেগ দিল্লির একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি দিল্লির মডার্ন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে স্কুল শিক্ষা শেষ করেন এবং ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
তিনি ‘অ্যাটেলিয়ার ১১’ নামক একটি ফটোগ্রাফিক স্টুডিও এবং প্রোডাকশন কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতজুড়ে বিভিন্ন এজেন্সি, ব্র্যান্ড এবং গ্রাহকদের সাথে কাজ করে। তাঁর ফটোগ্রাফিতে মূলত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
২০১৮ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাঁর কাজ প্রদর্শন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘ইউ ক্যাননট মিস দিস’ (২০২৩) - মেথড গ্যালারি এবং ইন্ডিয়া আর্ট ফেয়ারের ইয়াং কালেক্টর প্রোগ্রাম। ‘দ্য ইলিউসরি ওয়ার্ল্ড’ (২০১৯)- দ্য কোরাম ক্লাব এবং ইন্ডিয়া ডিজাইন আইডি (২০১৮)- কে২ ইন্ডিয়া।
মিডিয়া এবং যোগাযোগ খাতেও অবিভার কাজের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ‘প্লাসরাইম’-এ ফ্রিল্যান্স প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি ‘প্রোপাগান্ডা’ টিভিতে জুনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার, ‘আর্ট চেইন ইন্ডিয়া’তে মার্কেটিং ইন্টার্ন এবং ‘আই-পার্লামেন্ট’-এর ‘দ্য জার্নাল’-এ এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি ‘ভার্ভ ম্যাগাজিন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ক্রিয়েটিভ’ ইমেজ ম্যাগাজিনে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন।
রায়হান ভদ্রা কে?
রায়হান ভদ্রা একজন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট। মাত্র দশ বছর বয়স থেকেই তিনি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। তাঁর পোর্টফোলিওতে বন্যপ্রাণী, পথচিত্র এবং বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফি স্থান পেয়েছে। নয়াদিল্লির বিকানের হাউসে তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
স্কুলের একটি ক্রিকেট ম্যাচে চোখের আঘাত পাওয়ার ঘটনা থেকে তিনি এই প্রদর্শনীর অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সেই দুর্ঘটনার পর তিনি ব্ল্যাক-এন্ড-হোয়াইট ফটোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়েন, যেখানে আলো-ছায়ার বৈপরীত্য ব্যবহার করে গভীরতা তৈরি করা হয়।
মা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার উৎসাহে রায়হান তাঁর সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর দাদু এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ফটোগ্রাফি থেকেও অনুপ্রেরণা পান।
