ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধসহ পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন। ইসরাইলের গণমাধ্যম শনিবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরান এসব শর্তের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিরা দ্রুতই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শনিবার কাতারের আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্রুতই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসবে। এক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন হতে পারে। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি দ্রুতই হওয়া উচিত। কিন্তু এখনও কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মৌলিক ও সার্বভৌম অবস্থান হলো—দেশ থেকে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম বের করে নেওয়ার বিরোধিতা করা; তবে আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমাতে প্রস্তুত।

চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আরাকচি বলেন, মাসকাটে আমি ঘোষণা করেছি যে, দ্রুত একটি বাস্তব চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যত সময় প্রয়োজন, আমি সেখানে থাকতে প্রস্তুত আছি।
ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার পর দুই দেশের উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে আশাবাদী ইরানের জনগণ। সামরিক উপায়ে নয় বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান চান তারা।
তারা বলছেন, দুই দেশেরই নেতাদের উচিত সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া। কারণ, এটা জনগণের জন্য শুধু ক্ষতিই বয়ে আনবে। বরং শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের জন্যই কাজ করা উচিত তাদের।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চেষ্টা করছে সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে। কারণ ইরানেরও সামরিক বাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী।
এদিকে, বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভ।
শর্তগুলো হলো- ইরানের সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরানো, দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া, ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া, মিসাইল প্রোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যে সব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী আছে তাদের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো শুধুমাত্র মানা অসম্ভবই নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দ্বিতীয় হামলা চালাবে।
আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, ওই বৈঠকে মূলত ইরান নিয়েই আলোচনা করবেন দুই নেতা। তারপর আসতে পারে নতুন সিদ্ধান্ত।
শহীদ হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলো সরকার
চীনে বায়োটেক কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত আট