মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের স্থল ও নৌ-শক্তির মহড়া চালিয়েছে। দক্ষিণ ইরান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোতে পরিচালিত এই যৌথ সামরিক মহড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছিলো।
পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এক ব্যাপকভিত্তিক সামরিক মহড়াটি শেষ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই মহড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন রণকৌশলের সমন্বয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী প্রদর্শনী দেখা গেছে।
আইআরজিসির গ্রাউন্ড ফোর্সেস বা স্থলবাহিনী ইরানের দক্ষিণ সীমান্ত এবং পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে এই সম্মিলিত সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। এই মহড়ার অন্যতম বিশেষত্ব ছিল ‘লাইভ-ফায়ার’ তাজা গোলাবর্ষণ অপারেশন, যা বিভিন্ন পাল্লার আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হয়।
অপারেশনের বিভিন্ন স্তরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নব-প্রবর্তিত 'কম্বাইন্ড ট্যাকটিকস' বা সম্মিলিত রণকৌশল এই মহড়ায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে আইআরজিসি নেভি বা নৌবাহিনী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে একটি বিশেষ নৌ-মহড়া পরিচালনা করে। ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অফ দ্য স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ শীর্ষক এই মহড়াটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন আইআরজিসি কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর।
এই সুনির্দিষ্ট এবং লক্ষ্যভিত্তিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতা যাচাই করা। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই যুদ্ধ মহড়ার কয়েকটি প্রধান লক্ষ্যের কথা জানানো হয়েছে।
অপারেশনাল প্রস্তুতি: নৌ-ইউনিটগুলোর তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং তাদের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা।
পাল্টা হামলার পরিকল্পনা: যে কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণের জবাবে সম্ভাব্য 'রেসিপ্রোকাল মিলিটারি অ্যাকশন' বা পারস্পরিক সামরিক ব্যবস্থার বিভিন্ন চিত্র (সিনারিও) পর্যালোচনা করা।
ভৌগোলিক সুবিধা: পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে ইরানের যে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে, তাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা দেয়াল মজবুত করা।
যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে এবং ওয়াশিংটন থেকে হামলার হুমকি আসছে, তখন ইরানের এই নিয়মিত সামরিক মহড়া আন্তর্জাতিক মহলে এক বিশেষ সংকেত দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর স্থানে 'স্মার্ট কন্ট্রোল' বা বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণের মহড়া দিয়ে তেহরান এটিই বুঝিয়ে দিলো, তারা যে কোনো মূল্যে নিজেদের জলসীমা এবং জ্বালানি সরবরাহের রুট রক্ষা করতে প্রস্তুত।
মার্কিন রণতরী ডোবাতে চীন থেকে আসছে ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র
১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরীতে ‘টয়লেট’ সংকট!