ভারতের সিকিমসহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে চলছে টানা বৃষ্টিপাত। শুক্রবার থেকে ভারী বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে বিভিন্ন নদীতে। শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করে তিস্তা। ডুয়ার্স, কালিম্পং, ক্রান্তি থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত ফুলে-ফেঁপে উঠেছে খরস্রোতা নদীটি।
এছাড়াও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নন্দনপুর বোয়ালমারী এলাকায়ও তিস্তার পানির চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে, গজলডোবা ব্যারেজ থেকে দফার দফায় পানি ছাড়া হচ্ছে। গজলডোবার তিস্তা বাঁধ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত আটটায় প্রায় ছয় হাজার ও তারপরে রাত সাড়ে ১২টায় আরও একবার চার হাজার ৭০০ কিউসেকেরও বেশি পানি ছাড়া হয়েছে। খবর বিবিসি’র।
এদিকে, বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে তাদেরকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ভারত যে বাড়তি পানি ছেড়েছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে অফিশিয়াল কোনও খবর নেই।’
গজলডোবা বাঁধ দিয়ে হঠাৎ করে এত বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সেচ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মতো ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলায়ও গত তিনদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ময়নাগুড়ি দোমোহনি, মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সেইসাথে, তিস্তা অববাহিকায় পানির স্তর বাড়তে থাকায় গতকাল রাত থেকে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের জেলা প্রশাসন নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিতে শুরু করেছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার সকালে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পং জেলায় ১৩০ মিলিমিটার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই দুই জেলায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তারা।
তিস্তার পানির স্তর বাড়ায় উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মানুষদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৈরি রাখা হয়েছে এনডিআরএফ বাহিনীকে।
এদিকে, উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সব কয়টিই খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, তাই তিস্তা অববাহিকায় ‘সাধারণ বন্যা’ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তিস্তা নদীর অববাহিকায় নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট- এই পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নেপালে অতিবৃষ্টির বন্যা ও ভূমিধ্বসে নিহত ৬৬