পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সাথে কমে আসবে ঢাকার দূরত্ব। রেলে পণ্য পরিবহনে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
প্রাথমিকভাবে খুলনা, যশোর রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের। প্রয়োজনে এই পথে বাড়ানো হবে ট্রেনের সংখ্যা।
ট্রেনে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব এখন ৩৮১ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু দিয়ে যে নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে ঢাকা-খুলনার দূরত্ব কমবে ২১২ কিলোমিটার।
১১ ঘন্টার বদলে চার ঘন্টাতেই যাওয়া যাবে খুলনা। কমবে পণ্য পরিবহনের খরচও। এমন নানামুখী সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প।
ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখন ট্রেন যায় বঙ্গবন্ধু সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হয়ে। পদ্মা সেতুতে রেল চালু হলে ট্রেনগুলোকে এতোটা ঘুরে গন্তব্যে যেতে হবে না। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন আগামী জুনেই চালু হতে পারে। ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর রেলসংযোগ আগে থেকেই আছে।
ফলে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের কাজ শেষ হলে পশ্চিমাঞ্চলের সাথে বিকল্প আরেকটি পথ চালু হবে। আর সেই কাজ চলছে ধুমিয়ে, নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে কাজ।
নতুন রেলপথ মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলাকেও রেল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করবে। পণ্য পরিবহনেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

নতুন ব্রডগেজ রেললাইনটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, পদ্মা সেতু, জাজিরা, ভাঙ্গা, কাশিয়ানী, নড়াইল, জামদিয়া পর্যন্ত যাওয়ার পর এর একটি শাখা যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত, অন্যটি খুলনার সিংগিয়া রেলস্টেশনে যুক্ত হবে।
পদ্মা সেতু দিয়ে নতুন রেলপথ চালু হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মালামাল ট্রেনে পরিবহন করা যাবে। ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে আনতে চায় সরকার।
কিন্তু, বরিশাল বিভাগ এখনো তার বাইরে। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প এক সময় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
একাত্তর/এআর
