পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশ বেলুচিস্তানে জঙ্গি সংগঠন জইশ অল অদলের এক ঘাঁটিতে ইরানের মারাত্মক মিসাইল ও ড্রোন হামলার পর, ইরানেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদেরও দাবি, তারাও ‘জঙ্গি দমন’ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে অন্য কোনো বিরোধ নেই।
পাকিস্তান এমন একসময়ে সীমান্তের জঙ্গি ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিরোধে জড়ালো যখন দেশটির সামনে আছে জাতীয় নির্বাচন। তবে তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপণ্য, এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটে এখনও জর্জরিত পাকিস্তান। আছে জ্বালানি সংকটও।
সম্প্রতি লাহোরে এক ডজন ডিমের দাম পৌঁছেছে চারশ’ পাকিস্তানি টাকায়। স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে সরকারি মূল্য নীতি কার্যকর করতে। বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিলেও কোথাও সেটি মানা হচ্ছে না। উল্টো যে যেমন পারছে দাম রাখছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
শুধু ডিম ই নয়। সাধ্যের বাইরে চলে গেছে পেঁয়াজের দামও। এক কেজি পেঁয়াজ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৩০ থেকে ২৫০ পাকিস্তানি টাকায়। যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজিতে ১৭৫ টাকা। কিন্তু এই দামে দেশটির কোথাও পেঁয়াজ পাওয়া যায় না।
পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মুরগির দামও। এক কেজি মুরগির দাম পাকিস্তানি খুচরো বাজারে ৬১৫ টাকা। মুদ্রাস্ফীতি তথা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির ইকোনমিক কোঅর্ডিনেশন কমিটি নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল প্রাইস মনিটরিং কমিটিকে৷ যাতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম সাধ্যের মধ্যেই থাকে৷
চিনির বাজারও তেতো! দেশটিতে চিনির পাইকারি দর প্রতি কেজি ৮ টাকা বেড়ে ১৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। চিনির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৫০-১৫৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়ে গেছে। অনলাইন দোকানগুলোতে দাম আরও চড়া। প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১৬০-১৬৫ টাকা থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত।
ঋণভারেও জর্জরিত পাকিস্তান। ২০২৩-২৪ আর্থিক বর্ষের নভেম্বরে দেশটির আন্তর্জাতিক ঋণের অঙ্ক পৌঁছে গেছে ৬৩,৩৯৯ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি টাকায়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে আর্থিক বিকাশ নেই। ফলে সমাজের ধনীরাই উপকৃত হয়েছে। বাকি স্তরের মানুষ ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে৷
উত্তেজনা না বাড়াতে ইরান ও পাকিস্তানকে তুরস্কের আহ্বান
রাজতন্ত্রের সমালোচনা করায় ৫০ বছরের কারাদণ্ড