প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেরবার অবস্থা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশটির রাজস্থান রাজ্যে ভারী বৃষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। এছাড়া পাঞ্জাবে মারা গেছেন আরও সাতজন। টানা বর্ষণে ডুবে গেছে রাজধানী নয়াদিল্লিও। হিমাচল প্রদেশে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৩০০ সড়ক।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেলো শনিবার থেকে প্রবল বৃষ্টিতে রাজস্থানের জয়পুর, করৌলি, সাওয়াই মাধোপুর এবং দৌসার রাস্তায় পানি জমে গেছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর সোমবার জয়পুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
জয়পুরের উপচে পড়া কানোটা বাঁধে ডুবে পাঁচ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও রোববার রাত পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, ভরতপুর জেলার শ্রীনগর গ্রামের কাছে বনগঙ্গা নদীতে ডুবে সাত ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সোমবারও দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছ।
পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে,রোববার পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে উপচে পড়া পানির স্রোতে একটি এসইউভি গাড়ি ভেসে যায়। এতে একটি পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হিমাচল প্রদেশের মেহতপুর থেকে এসবিএস নগরের মেহরোয়াল গ্রামে যাচ্ছিলেন তারা।
ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হিমাচল প্রদেশও। গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে রাজ্যের অন্তত ২৮০টি সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ১৫০ সড়ক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উনা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে উপচে পড়া পানি প্রবেশ করেছে।
ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজধানী দিল্লির জনজীবন। রোববার টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে যানচলাচল। শহরটির জন্য ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ,যা অত্যন্ত খারাপ আবহাওয়া এবং পরিবহন,রেল ও সড়ক যোগাযোগে সম্ভাব্য সমস্যার জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
বন্যার্তদের রাজধানীতে সরিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া