ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগ সংক্রান্ত এক মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডা এবং বিশ্ববাণিজ্যের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বুধবার (৫ নভেম্বর) সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই হোয়াইট হাউসের আমদানি শুল্ক আরোপের পক্ষে দেওয়া যুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। রক্ষণশীল বিচারপতিদের একাংশও এই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত পুনরুদ্ধার এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে এই শুল্ক আরোপ অপরিহার্য ছিলো।
প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের অভিযোগ, কার্যত ‘করের’ সমতুল্য এই শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।
৯ জন বিচারপতির মধ্যে ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সাধারণত বড় কোনো সিদ্ধান্ত দিতে কয়েক মাস সময় নেয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালত দ্রুত রায় ঘোষণা করতে পারে। অনেক পর্যবেক্ষকই এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
বিচারপতির প্রশ্ন: ‘তাহলে কি প্রতিটি দেশই শিল্পের জন্য হুমকি?’
শুনানিতে বিচারপতিদের কড়া প্রশ্নবাণে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কোণঠাসা হন। ট্রাম্প নিযুক্ত বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেটও কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, তাহলে কি আপনাদের বক্তব্য এই যে প্রতিটি দেশকেই প্রতিরক্ষা এবং শিল্পের জন্য হুমকি বিবেচনা করে শুল্ক আরোপ করতে হয়েছে? যেমন: স্পেন? ফ্রান্স?
তিনি আরো প্রশ্ন করেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা বোঝা যায়, কিন্তু আমাকে বোঝান এতগুলো দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক নীতি প্রয়োগের প্রয়োজন কেনো পড়লো?
এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন হেরে গেলে বিলিয়ন ডলারের শুল্ক অর্থ ঝুঁকিতে পড়বে। আদালত এই শুল্ক বাতিল ঘোষণা করলে সরকারকে ইতোমধ্যে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত দিতে হতে পারে। বিচারপতি ব্যারেট নিজেই এই পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুনানিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, আদালত তাদের বিপক্ষে রায় দিলে প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ খুঁজবে।
নিউইয়র্কের নির্বাচনে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের সাফল্য