সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হচ্ছে। এতে আগের মতো আর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করতে পারবেন না আইনপ্রণেতারা।
বৃহস্পতিবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী শুল্ক বসানোর এই প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা পুরোপুরি থাকছে না।
বর্তমানে সংসদের সদস্যরা কোনো শুল্ক ছাড়াই গাড়ি আমদানি করতে পারেন। গত ৩৬ বছর ধরে এই সুবিধা পেয়ে আসছেন তারা।
গাড়ি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে সম্পূরক শুল্ক থেকে। বর্তমানে গাড়ির ইঞ্জিনের সিসিভেদে ৪৫ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়নি।
সাধারণ আমদানিকারকদের আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। সুতরাং সংসদ সদস্যদের ওপর শুধু আমদানি শুল্ক বসার কারণে তাদেরকে খুব বেশি রাজস্ব দিতে হবে না।
সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা প্রথম দেওয়া হয় এইচ এম এরশাদের আমলে। ১৯৮৮ সালের ২৪ মে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরের সরকারগুলো এই সুবিধা বহাল রাখে।
সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়িতে শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করা হলে এর ওপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, মূসক ১৫ শতাংশ, আরডি তিন শতাংশ, আগাম কর পাঁচ শতাংশ, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৪০০ থেকে ৫০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ আছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় সংসদ সদস্যদের শুল্ক-কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের অংশ হিসেবে কর অব্যাহতি সুবিধা কিছুটা কমিয়ে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে অন্যান্য সব শুল্ক-কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা যেতে পারে।
অষ্টম সংসদের মেয়াদে মেয়াদে আমদানি করা ২৭৫টি শুল্কমুক্ত গাড়ির মধ্যে ৫৫টিই বিএমডব্লিউ গাড়ি ও জিপ। শুল্ক ছাড়া এগুলোর সর্বোচ্চ মূল্য ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি ও জিপ আনা হয়েছে ৪০টি। এই ব্র্যান্ডের জিপের দাম সর্বোচ্চ ৭৩ লাখ টাকা ও গাড়ির সর্বোচ্চ দাম এক কোটি ১৮ লাখ টাকা।
ওই সংসদে বিশ্বের অন্যতম দামি গাড়ি পোরশে এসেছে ১০টি। লেক্সাস গাড়ি ও জিপ আনা হয়েছে ২৩টি। ল্যান্ড রোভার রেঞ্জ রোভার ১৬টি।
পরে নবম সংসদে তৎকালীন স্পিকার (পরে রাষ্ট্রপতি) আবদুল হামিদ দামি কিছু ব্রান্ডের গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। সে অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে রাজস্ব বোর্ড।
শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা কাজে লাগিয়ে নবম সংসদের মেয়াদে আমদানি হয় ৩১৫টি। অষ্টম সংসদে ৩১১টি, পঞ্চম সংসদে ৩০১টি ও সপ্তম সংসদের মেয়াদে ১৭৬টি গাড়ি আমদানি হয়েছিলো।
শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত অনেক সংসদ সদস্য গাড়ি হাতবদল করলেও সাজা পেয়েছেন মাত্র একজন, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। গাড়ি আমদানি করে হাতবদল নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক খবরও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়।
কমছে মোটরসাইকেলের দাম