রিচার্ড প্লড নামে ফরাসি এক ব্যক্তি সাত লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে করে তৈরি করেছেন প্যারিসের বিখ্যাত মনুমেন্ট আইফেল টাওয়ারের রেপ্লিকা। উদ্দেশ্য ছিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তারপরও দমে যাননি রিচার্ড। অলিম্পিকে প্রদর্শনীর জন্য রেখেছেন রেপ্লিকাটি।
দীর্ঘ আট বছর সময় নিয়ে আইফেল টাওয়ারের এই রেপ্লিকা তৈরি করেছেন ৪৭ বছর বয়সী রিচার্ড প্লড। এর পেয়েছেন ব্যয় করেছেন চার হাজার ২০০ ঘণ্টা। ২৩ দশমিক ৬ ফুট উচ্চতার এই মডেল তৈরি করতে প্রায় সাত লাখ আট হাজার দিয়াশলাই কাঠি ব্যবহার করেছেন।
এ নিয়ে রিচার্ড প্লড বলেন, শেষ পর্যন্ত আমার কাজটিকে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দেশলাইয়ের কাঠির মডেল হিসাবে বৈধতা দেয়ার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে গৃহীত হয়েছে। এটা আমার জন্য খুবই ভালো খবর, আমি এই ফলাফলে সন্তুষ্ট। তিনি জানান, আরও উঁচুতে যেতে চান তিনি।
এর আগে লেবাননের তৌফিক দাহের ২০০৯ সালে আইফেলের রেপ্লিকা তৈরি করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছিল দেশলাইয়ে ব্যবহৃত ৬০ লাখ কাঠি। উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৪ ফুট।

প্লড বলেন, এই আট বছরের কাজের জন্য আমি কখনই আফসোস করিনি। আমার কাছে সবসময়ই আনন্দের ছিল। আমার মাথায় সব সময়ই বিশ্ব রেকর্ডকে হারানোর ধারণা ছিল। তাই আমি কখনোই অনুশোচনা করিনি।
এমন কাজের স্বীকৃতি পেতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনও করেছেন রিচার্ড। তবে কর্তৃপক্ষ কিছু যাচাই না করেই তা খারিজ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম বলছে, এ ধরনের মডেল বানাতে ব্যবহার করতে হবে বাজারে বিক্রি হয় এমন দিয়াশলাইয়ের কাঠি। সেগুলোতে থাকতে পারবে না কোনো বারুদ। এসব কাঠিতে কোনো ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া বা বিকৃত করা যাবে না। যেমন বিক্রি সেগুলো দিয়েই করতে হবে।
তবে, রিচার্ড বলছেন, প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে দিয়াশলাই দিয়েই কাজ শুরু করেন। একের পর এক কাঠির বারুদের অংশ কাটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
তাই, ফরাসি দিয়াশলাই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে বারুদ ছাড়া কাঠি সংগ্রহ করেন। কাঠি ভর্তি সেসব বক্সের সব মিলিয়ে ওজন ছিল ১৫ কেজি। এরপরও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি না পেয়ে হতাশ রিচার্ড প্লড। তবে আবারও চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
