নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর অবশেষে খোঁজ পাওয়া গেল গাজার ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, শনিবার গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া শহরতলির একটি গোলচত্বরের কাছে পরিবারের সদস্যরা হিন্দের মৃতদেহ খুঁজে পায়। চাচা-চাচি ও তাদের তিন সন্তানের সঙ্গে পড়েছিলো রজবের মরদেহ।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি রজব তার চাচা-চাচি ও তিন চাচাতো ভাইবোনের সাথে একটি গাড়িতে করে শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলো। সেই সময় ইসরাইলি বাহিনীরা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।
শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা রজব জরুরি সাহায্যের জন কল করে। অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, রজবই একমাত্র গাড়িতে বেঁচে ছিলো। ইসরাইলি বাহিনীর কাছ থেকে বাঁচার জন্য সে তার আত্মীয়দের লাশের মধ্যে লুকিয়ে ছিলো। ছোট রজব জরুরি কল অপারেটরদের বলে, ‘ট্যাঙ্কটি আমার পাশেই আছে। এটি খুব কাছে চলে এসেছে।’
অপারেটরদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ফোনের লাইনে ছিলো রজব। অপারেটররা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং ফোন লাইনটি কেটে যায়।
রজবের শেষ কথার বরাত দিয়ে বিবিসি বলে, তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাবে? আমি খুব ভয় পাচ্ছি।
যারা ওই পরিবারকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন সেই দুই স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহও পাওয়া যায় রজবদের গাড়ির কাছে।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিসিআরএস) প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির পুরোটাই পুড়ে গেছে।
শনিবার আল জাজিরার একটি ফুটেজে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি গাড়ি থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে ছিলো। ফুটেজে আরও দেখা যায়, একটি বুলেটে ক্ষতিগ্রস্ত কালো কিয়া পিকান্টো গাড়ি যার মধ্যে রজব ও তার পরিবারের মৃতদেহ।
পিআরসিএসকে বরাত দিয়ে বিবিসি বলেছে, রজবের কাছে প্যারামেডিক পাঠানোর জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাথে সমন্বয় করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিলো।
পিআরসিএসের মুখপাত্র নিবাল ফারসাখ জানান, আমরা ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম। আমাদের প্যারামেডিকরা নিশ্চিত করে যে, তারা হিন্দকে গাড়ির মধ্যে দেখতে পাচ্ছিলো। শেষ যেটা আমরা তাদের কাছে থেকে শুনেছি, তা হলো ক্রমাগত গুলির শব্দ।
রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতির পর কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
ইসরাইল এর আগে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তারা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে অস্ত্র ও যোদ্ধা এনেছে।
