প্রেম-ভালোবাসা আর শিল্প-সাহিত্যের শহরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিক গেমস। মুগ্ধ উদ্বোধন শেষে এখন পদক জয়ের লড়াইয়ে ব্যস্ত হাজারো ক্রীড়াবিদ। উদ্বোধনের দিন থেকে প্যারিসে জ্বলছে অলিম্পিক মশাল। আসর শেষ হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে সেটি। তবে অলিম্পিকের এই ঐতিহ্যবাহী মশাল প্যারিসই নয়, জ্বলছে শত শত কিলোমিটার দূরে- মহাকাশেও। যেখানে নেই কোনও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
যেখানে সবকিছুই ভাসমান। সেই সুদূর মহাকাশেও জ্বলছে অলিম্পিক মশাল। সৌজন্য সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরেরা। আর, সেই মুহূর্তের এক ভিডিও শেয়ার করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান- নাসা। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অলিম্পিক মশাল হাতে পারফর্ম করছেন সুনীতাসহ উইলিয়ামসসহ ৯ নভোচারী। মহাকাশে ভেসেই করলেন ভারত্তোলন, জিমন্যাসটিক এমনি কি সাঁতারও।
অ্যাথলেটদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন জানালেন সুনীতা উইলিয়ামসরা। গেলো পাঁচ জুন স্টারলাইনারে চড়ে মাত্র আট দিনের জন্য মহাকাশে স্টেশনে গিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও তার সহ-অভিযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোর। কিন্তু তাদের বহনকারী স্টারলাইনারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি তারা। কীভাবে ফিরবেন তারা, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাসার দেয়া সবশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, মহাকাশযানে গোলযোগের কারণে তারা আটকে পড়েছেন। প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেলো, কীভাবে পৃথিবীতে ফিরবেন তাঁরা, সেই নিয়ে এখনও কোনও সমাধান বের করা যায়নি। তবে নাসা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা স্টেশনে আটকে থাকা, নভোচারী সুনীতা এবং বুচ উইলমোর নিরাপদে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে নাসা।
সন্দেহ করা হচ্ছে, যে মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীতে ফেরার কথা সুনীতা ও বুচের, সেই বোয়িং স্টারলাইনার বিগড়ে গিয়েই সমস্যা বাধিয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে প্রপেলারের বড় কোনও সমস্যা এবং হিলিয়াম গ্যাসের পর পর লিক হওয়া এই গোলমালের জন্য দায়ী। তবে ওই বোয়িং স্টারলাইনারে করে সুনীতা ও বুচ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন কি না, নাসার বক্তব্যে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একান্তই যদি স্টারলাইনার বোয়িংয়ে করে ফেরা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্পও ভেবে রেখেছে নাসা। এজন্য ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেশ এক্স সহায়তা দেবে। তাদের তৈরি ক্রু ড্র্যাগনে করে পৃথিবীতে ফেরানোর ব্যবস্থা নেবে নাসা। সেটিও ব্যর্থ হলে রাশিয়ার সহযোগিতা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে রাশিয়ান সয়ুজ মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীতে ফিরবেন সুনীতার। তবে খুব বেশি সময় হাতে নেই। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নাসাকে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এই স্টারলাইনার মহাকাশযানটি সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তারপর তার ব্যাটারি নিঃশেষিত হতে পারে। এর অর্থ নাসার গবেষকদের হাতে আর ৪০ দিন রয়েছে। সুতরাং এই ৪০ দিনের মধ্যেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সুনীতা এবং বুচ স্টারলাইনার মহাকাশযানেই পৃথিবীতে ফিরবেন, না কি স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন বা রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযানে ফিরবেন।

কবে, কোন যানে সুনীতার ত্রিশঙ্কু অবস্থা কাটবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নাসা জানিয়েছে, সুনীতা এবং বুচ ভালো মেজাজে আছেন। এর আগেও তারা দীর্ঘ সময় অভিযানে শামিল হয়েছেন। আকস্মিক কিছু ঘটলে কী করতে হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। তবে, তার আগে স্টারলাইনার বোয়িংয়েই যাতে সুনীতাদের ফিরিয়ে আনা যায়, সে চেষ্টাই চলছে। পৃথিবীবাসীরাও চাইছে নিরাপদেআই ফিরুক সুনীতারা।
