ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার দাবি করেছে দখলদার ইসরাইল। ৭ অক্টোবরের ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ বা আল-আকসা তুফানের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন এ নেতা।
দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, বুধবার দক্ষিণ গাজার রাফায় এক হামলায় নিহত হন হামাসপ্রধান। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
আইডিএফ বলেছে, মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার করার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসরাইলের পরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।
হামাসের দুটি সূত্র সৌদির সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আসওয়াতকে সিনওয়ারের মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, গাজার ভেতর এবং বাইরে থাকা নেতাদের সিনওয়ারের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, সিনওয়ারের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কয়েক দিন আগে সবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, বুধবার রাফার একটি ভবনে হামাসের কয়েকজন যোদ্ধাকে প্রবেশ করতে দেখে ইসরাইলি সেনারা। এরপর সেখানে হামলা চালানো হয়। হামলার পর সেনারা সেখানে যাওয়ার পর সিনওয়ারের মতো দেখতে এক যোদ্ধাসহ মোট তিনজনের মরদেহ পায়। সবশেষ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত হওয়া গেছে ওই মরদেহটি সিনওয়ারেরই ছিলো।

সিনওয়ারের মরদেহের তিনটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, তিনি একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছেন। তার মাথায় গভীর ক্ষত রয়েছে।
ছবিতে আরও দেখা গেছে, ওই সময় সিনওয়ার নিরাপত্তা ভেস্ট এবং হাতে একটি ঘড়ি পরা ছিলেন।
ছবি ও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলেছে, মরদেহটির চোখের ভ্রু, চোখের নিচের একটি দাগ এবং দাঁতের সঙ্গে সিনওয়ারের আগের ছবির সম্পূর্ণ মিল রয়েছে, অর্থাৎ এটি সিনওয়ারেরই মরদেহ ছিলো।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনওয়ারের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছেন।
সিনওয়ার ১৯৬২ সালে গাজার খান ইউনিস শরণার্থী ক্যাম্পে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২২ বছর দখলদার ইসরায়েলের কারাগারে ছিলেন। ১৯৮৮ সালে দুই ইসরাইলি সেনাকে জিম্মি এবং তাদের হত্যা করায় সিনওয়াকে আটক করা হয়েছিলো। ২০১১ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান তিনি। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকার সময় হিব্রু ভাষা আয়ত্ত করেন সিনওয়ার।
২০১৭ সালে হামাসের গাজা শাখার প্রধান হন তিনি। গত জুলাইয়ে হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া ইরানে গুপ্তহত্যার শিকার হলে তিনি সংগঠনের প্রধান নির্বাচিত হন।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
৭ অক্টোবরের ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ বা আল-আকসা তুফানের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয় সিনওয়ারকে।
এবার স্টিলথ বম্বার দিয়ে হুথিদের আস্তানায় হামলা
ইরানের ভয়ে ইসরাইলে সেনাসহ ‘থাড’ পাঠাচ্ছে আমেরিকা
ইরানের অস্ত্রের নাগালে মার্কিন জাহাজ ও ঘাঁটি, বোকামি করলেই হামলা