যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার শর্ত খতিয়ে দেখছে ইরান

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা কমিয়ে আনতে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে কূটনৈতিক আলোচনা। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনার শর্তগুলো খতিয়ে দেখছে। নিচে এই উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক রণপ্রস্তুতির মাঝেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। গত মাসে ইরান সরকারের কঠোর দমনপীড়নের পর সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে দুই পক্ষই এখন কূটনীতির টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছেন; এক- ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। দুই- ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ। তিন- আঞ্চলিক প্রক্সি বা ছায়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

ইরান আগে এই শর্তগুলোকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তারা জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেয়ে ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেয়া তাদের জন্য বেশি কঠিন। 

তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ইরান ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে এবং একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রস্তুত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খুব শিগগিরই তুরস্কে বৈঠকে বসতে পারেন। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, চলতি সপ্তাহের আলোচনা মূলত কূটনীতির ওপর মনোনিবেশ করবে, যা সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা এড়ানোর একটি সুযোগ হতে পারে।

তবে ইরান একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের উপকূল থেকে মার্কিন রণতরি ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে হবে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতি চলছে। এখন বল ট্রাম্পের কোর্টে। ট্রাম্প একদিন আগেই বলেছিলেন, তেহরান যুদ্ধের চেয়ে চুক্তিতে বেশি আগ্রহী। 

গত এক বছরে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব অনেকটাই খর্ব হয়েছে। গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ওপর ইসরাইলি হামলা এবং সিরিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল-আসাদের পতন তেহরানকে চাপে ফেলেছে। এছাড়া গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তেহরান দ্রুততম সময়ে ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার চায়। ইরানের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, যার বিনিময়ে তারা তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিতে এবং সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে রাজি।

২০২৩ সালের মে থেকে ঝুলে থাকা এই আলোচনা এখন এক চূড়ান্ত মোড়ে দাঁড়িয়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর ভয়, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এই কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।

এখন দেখার বিষয়, তুরস্কের সম্ভাব্য বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন বার্তা নিয়ে আসে, না কি শর্তের বেড়াজালে আবারও ভেস্তে যায় এই ঐতিহাসিক সুযোগ।

এআরএস
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পেশ করা ‘সাত দিনের প্রস্তাব’ এখনও টেবিলে বহাল রয়েছে বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার...
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন...
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যখন এক চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিস্ফোরক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। পারমাণিক বোমার বাইরে দেশটির হাতে...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি, বরং তিনি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি...
ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে...
নানা নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৌঁছেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর