চলতি ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স এবং তাঁর আচরণ নিয়ে খোদ আমেরিকানদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশিরভাগেরই ধারণা, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্তিকর ব্যক্তি হয়ে উঠছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৭৯তম জন্মদিনের প্রাক্কালে এবং তাঁর বার্ষিক 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণের ঠিক আগে প্রকাশিত এক নতুন জরিপ বলছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি আমেরিকান মনে করেন প্রেসিডেন্ট বয়সের সাথে সাথে খামখেয়ালি বা অনিয়মিত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ বিষয় হলো, তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই একই মত পোষণ করছে।
সোমবার শেষ হওয়া ছয় দিনব্যাপী এই অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পকে বয়সের কারণে অনিয়মিত বা ‘খাপছাড়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ এমন মনে করলেও, রিপাবলিকানদের ৩০ শতাংশ (যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে মাত্র ৪৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ বা সক্ষম। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে তাঁর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে জনমনে আস্থা কমেছে।
জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা শুধু ট্রাম্প নয়, বরং ওয়াশিংটনের সামগ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের বয়স নিয়ে অসন্তুষ্ট। ৭৯ শতাংশ মানুষ মনে করে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অধিকাংশ আমেরিকানের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেশি বৃদ্ধ বা বয়স্ক। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এই মনোভাব স্পষ্ট; যেমন ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন ৭৫ বছর বয়সী সিনেট নেতা চাক শুমার সরকারে কাজ করার জন্য বেশি বয়স্ক হয়ে গেছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৭৮ বছর বয়সে শপথ নিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বয়স্কতম প্রেসিডেন্টের রেকর্ড গড়েন। গত কয়েক মাসে তিনি আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েনের মতো দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এমনকি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর কিছু সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করলে তিনি আদালতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দেশদ্রোহী বলে অভিহিত করেছেন।
অবশ্য এসব বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খুব একটা কমেনি। বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয়তার রেটিং ৪০ শতাংশ, যা এই মাসের শুরুর দিকে ৩৮ শতাংশ ছিল।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের অন্যতম কারণ ছিল জো বাইডেনের বার্ধক্যজনিত মানসিক অসারতা। বাইডেন ৮২ বছর বয়সে অফিস ছেড়েছেন, এবং ট্রাম্প যদি তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করেন, তবে তিনি বাইডেনের রেকর্ড ভেঙে দেবেন। আগামী জুনেই ট্রাম্পের বয়স ৮০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
রয়টার্স ও ইপসোসের এই জরিপটি ৪,৬৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলাফলটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ট্রাম্পের কঠোর নীতি এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্য তাঁর সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও, তাঁর মানসিক স্থিতিশীলতা ও বার্ধক্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দিন দিন বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের বিশাল সামরিক মহড়া
মাঝরাতে বাসভবন থেকে নিরাপদ স্থানে আসি প্রধানমন্ত্রী
ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি আশরাফ হাকিমি