কলকাতার উপকণ্ঠে সঞ্জীভা গার্ডেনসে সেপটিক ট্যাঙ্কে যে দেহাংশ পাওয়া গেছে তা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।
সংসদ সদস্য হত্যার তদন্তে ভারতের কোলকাতা থেকে ফিরে ঢাকা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের হারুন বলেন, এমপি আনারের মরদেহ বা দেহাবশেষ না পাওয়া গেলে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যেতো না।
তিনি বলেন, আমরা সুয়ারেজ লাইন ভাঙতে বলেছিলাম। সেটা ভেঙেই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ভিকটিমের দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। যদিও ফরেনসিক রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, এগুলো ভিকটিমের। কারণ অন্য কারো মাংস সেখানে এভাবে ফ্ল্যাশ করবে কেন?
ডিবি প্রধান বলেন, আমাদের যত ধরনের তথ্যের দরকার, কলকাতায় গিয়ে সবই পেয়েছি। আমরা সফলতা নিয়েই ফিরছি।
সংসদ সদস্য হত্যার মোটিভ এখনো পরিষ্কার নয় উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ব্যাবসায়িক, এলাকার আধিপত্য, রাজনৈতিক, স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন প্রত্যক্ষদর্শী ফ্ল্যাটে ফ্লাশের আওয়াজ শুনেছে। সেই তথ্য থেকেই আমরা ওয়াটার থিউরি অ্যাপ্লাই করেই মরদেহের খণ্ডিতাংশের সন্ধান পেয়েছি। এটাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটা আমরা উৎরে গেছি।
হারুন বলেন, এ মামলার আসামি একজন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকজন নেপালে। তাদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শাহীনের জন্য ইন্টারপোলে আর সিয়ামের জন্য নেপাল প্রসাশনের সাথে কথা বলেছি। কলকাতার পুলিশকেও বলেছি শাহীনকে ফেরাতে উদ্যোগ নিতে।
গত ১২ মে ঝিনাইদহর কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
গত ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেয়া হয়।
ওই তিনজন হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।
তদন্ত চালাকালীন জিহাদ হাওলাদার নামের এক কসাইকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে কয়েকটি খাল, জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও আনারের লাশের হদিস মেলাতে পারেনি কলকাতা পুলিশ।
২৪ বছর বয়সী জিহাদ হাওলাদার বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন তিনি। আনারকে ‘খুনে’র প্রায় দুই মাস আগে অভিযুক্তরা জিহাদকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জিহাদ বলেছেন, আখতারুজ্জামানের নির্দেশেই তিনি ‘সব কাজ’ করেছেন। আরও চার জন বাংলাদেশি এই কাজে সাহায্য করেছেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বাংলাদেশে এসে ২৪ মে ঢাকায় গ্রেপ্তার তিনজনকের জিজ্ঞাসাবাদ করে যান। এরপর ২৫ মে কলকাতায় যান বাংলাদেশের ডিবির তিন কর্মকর্তা। তারাও কসাই জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাকে নিয়ে সেই বাড়ি ঘুরে দেখেন, যেখানে আনারকে হত্যার কথা বলা হচ্ছে।
সঞ্জিভা গার্ডেনস নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের সেপটিক ট্যাংক থেকে মঙ্গলবার বেশ কিছু মাংসের টুকরো উদ্ধার করা হয়।
ওই দেহাংশের এমপি আনারের কি না তার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যদের কলকাতা যাওয়ার কথা রয়েছে।
