ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপালে আটক সিয়াম হোসেনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার বাবা-মা। তবে, তারা জানেন না সিয়াম কী করতেন। টেলিভিশনে সংসদ সদস্য হত্যায় সিয়ামের জড়িত থাকার খবর শুনে হতবাক তারা।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক আলাউদ্দিন বালী ও ফিরোজা খানম দম্পতির দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় সিয়াম হোসেন। ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে নেপালে আটক হয়েছে সে।
বোরহানউদ্দিন কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকায় চলে যায় সিয়াম। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সর্বশেষ চাকরি করতেন একটি কোম্পানিতে। সিয়াম কোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত, এটি মানতেই পারছেন না তার বাবা-মা।
সিয়ামের মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমার ছেলে এ ধরনের না। সংবাদে যা শুনি, তাতে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়।
সিয়ামের বাবা আলাউদ্দিন বালী জানান, ১৮ তারিখ নেপাল যায় সিয়াম। এরপর ২৬ মে সে ফোন করে তার মাকে জানান, তার জন্য যেনো দোয়া করে।
সিয়ামের ছোট বোন আফসারুন নেছা আনাকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সিয়াম। সেই বোনের দাবি, কোম্পানির কাজে ভারত-নেপাল যাতায়াত করে সিয়াম। তবে, ভাই কী কাজ করেন- তা তিনি জানেন না।

সিয়াম বাড়িতে যেতেন কম, তাই প্রতিবেশীদের সাথে তার খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হতো না। তারা শুধু জানেন সিয়াম ঢাকায় ভালো চাকরি করে। টেলিভিশনে সংসদ সদস্য হত্যায় তার জড়িত থাকার কথা শুনে হতবাক প্রতিবেশী আর পৌরসভার মেয়র।
ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, সিয়ামের বাবা চাকরির সুবাধে ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বোরহানউদ্দিনে আসেন। এরপর থেকে তারা এখানেই থাকেন।
সিয়ামের বাবা আলাউদ্দিন বালীর আদি বাড়ি বরিশালে। স্কুলে চাকরির সুবাদে ৩৫ বছর ধরে ভোলায় বসবাস করেন তিনি। এখানেই জন্ম সিয়ামের।
কলকাতায় বাংলাদেশের সংসদ সংসদ আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডে অন্যতম সন্দেহভাজন মো. সিয়াম হোসেন নেপালে আটক হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার নেপাল পুলিশ তাকে আটক করে।
ঢাকার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা শনিবার সকালে নেপাল গেছেন তাকে ফেরাতে। চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা।
ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের ফ্ল্যাটে আনারকে খুনের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না আক্তারুজ্জামান শাহীন। ১৩ মে আনারকে খুন করা হলেও ১০ মে শাহীন দেশে ফিরে আসেন। সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয় এ সিয়ামকে। লাশ গুমের দায়িত্বও ছিল সিয়ামের হাতে।
হত্যার মিশন বাস্তবায়নের পর শাহীন ফের ভারতে গেলে এই সিয়ামকে সঙ্গে করে নেপালে চলে যান তিনি। খুনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকাতেই মাস্টারমাইন্ড শাহীন তার সহকারী সিয়ামকে নেপালে আত্মগোপনে রেখে নিজে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
